চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে এবং আগামী ৭-৮ মাসের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ, ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্তকরণ এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এরপরই ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সেতুর নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি হবে সড়ক ও রেলের স্ট্যান্ডার্ড ডাবল লাইনযুক্ত। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৭০০ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৬০ ফুট। নদীর পানির সর্বোচ্চ স্তর থেকে ১২ মিটার উচ্চতায় সেতুটি নির্মিত হবে। সেতুর সাথে উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার করে মোট ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হবে।
এই প্রকল্পের জন্য ১৪১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেতুতে রেল চলাচলের জন্য ৩০ ফুটের মধ্যে ডাবল লাইন এবং সড়ক পরিবহনের জন্য ৩০ ফুটের ডাবল লাইন থাকবে। প্রকল্পের মধ্যে আরও থাকছে ৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ এবং ১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ।
প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আবুল কালাম চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্রে শুধুমাত্র কোরিয়ান ঠিকাদার বা জয়েন্ট ভেঞ্চারের (জেভি) মাধ্যমে অন্যরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সেতু থেকে ৭০ মিটার উজানে কোরিয়ার অর্থায়নে এই নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় এবং জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সরকারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বাকি ৭ হাজার ১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আসবে কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ) থেকে। ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।