সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: র‍্যাম্প জটিলতায় কমছে ব্যবহার, বাড়ছে লোকসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে নির্মিত প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারছে না। র‍্যাম্প সংকটের কারণে উড়ালসড়কটিতে যানবাহনের সংখ্যা কম, ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার যানবাহন চলাচলের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭ হাজার গাড়ি চলাচল করছে। এতে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে মাত্র ৫ লাখ ১ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে বিমানবন্দরে যেতে চাইলে নগরীর এক প্রান্তের মুরাদপুরে গিয়ে উড়ালসড়কে উঠতে হয়। নগরের মাঝে ওঠা-নামার র‍্যাম্প না থাকায় এটি ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে সাধারণ মানুষের তেমন কাজে আসছে না। আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সদস্য মো. ইসমাইল খান বলেন, “অন্তত আগ্রাবাদে ওঠানামার ব্যবস্থা করা হোক।”

‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম ফ্লাইওভার’ নামে পরিচিত এই উড়ালসড়কের ৯১ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায় শুরু হয়।

১৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসড়কে ১৫টি র‍্যাম্প নির্মাণের কথা থাকলেও সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি র‍্যাম্প নির্মাণ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। যানজট বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের অজুহাতে সিডিএর বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত র‍্যাম্প ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশযোগ্যতা কমবে, যা প্রায় ৪ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের সুফল থেকে নগরবাসীকে বঞ্চিত করবে।

প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, সিডিএ চেয়ারম্যান ও বোর্ড সদস্যরা যাচাই-বাছাই করে ছয়টি র‍্যাম্প নির্মাণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে চাইলে এগুলো নির্মাণ করা যাবে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ওঠানামার সুযোগ থাকছে। তবে টাইগারপাসের র‍্যাম্পটি নির্মিত না হলে কোতোয়ালী, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার যানবাহনকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে আগ্রাবাদ ঢেবারপাড় দিয়ে উঠতে হবে।

আগ্রাবাদে তিনটি র‍্যাম্প স্থগিত করায় হালিশহর, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাসহ বিশাল জনগোষ্ঠী এই উড়ালসড়কের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।

চুয়েটের সাবেক উপাচার্য ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুনঃসমীক্ষা ছাড়া র‍্যাম্প বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, নকশা অনুযায়ী র‍্যাম্প না থাকলে মানুষ সুফল পাবে না এবং প্রত্যাশিত গাড়ি না পেলে নির্মাণ খরচ তো বটেই, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তোলা কষ্টকর হবে।

পাঠকপ্রিয়