অন্তর্বর্তী সরকার কৃষকদের জন্য সার ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে একশ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে। দেশীয় মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সার আমদানিতে ৫০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি তেল আমদানিতে বাকি ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রথম সার আমদানির জন্য বিদেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আইটিএফসি প্রাথমিকভাবে সার আমদানির জন্য ২০ কোটি ডলার দিতে রাজি হলেও পরে পুরো ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইটিএফসি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যা অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোতে বাণিজ্য অর্থায়ন করে থাকে। সংস্থাটি ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মোট ৩৬০ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
গত ডিসেম্বরে সৌদি আরবের জেদ্দায় আইটিএফসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের ৪৮ বছরের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
আইটিএফসির চিফ অপারেটিং অফিসার নাজীম নূরদালি বাংলাদেশের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিগত ৪৮ বছরে ২৩ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ঋণের কিস্তি পরিশোধে কখনও ব্যর্থ হয়নি।
ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাওয়া ৫০ কোটি ডলার ঋণের মধ্যে প্রথমে ২০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয় আইটিএফসি। তবে বৈঠকের পর আরও ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটি। এই ঋণের সুদহার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এর আগে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে আইটিএফসি প্রতিনিধিরা জ্বালানি ও সার আমদানির জন্য ২০০ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই ঋণ চাওয়া হয়েছে। বিসিআইসির তথ্যমতে, বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ৬৮ লাখ টন সারের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা ২৭-৩০ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।
জেদ্দার বৈঠকে জানানো হয়, আগামী অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১৭৫ কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্স করবে এবং আইটিএফসির কাছ থেকে চাওয়া হবে ৫০ কোটি ডলার। এই ঋণের সুদের হার পড়বে ১.৭৫ শতাংশ, সঙ্গে প্রশাসনিক ফি ০.২ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানি তেল ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ডলার সংকটের কারণে সম্প্রতি সার আমদানি বিলম্বিত হচ্ছে। আইটিএফসির ঋণ পেলে ডলার সংকট দূর হবে এবং সার আমদানির এলসি খোলার জটিলতা কমবে।