রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বিপজ্জনকভাবে বসতঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন নতুন স্থানে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করা হলেও প্রশাসন নির্বিকার। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি, তেমনি নষ্ট হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাউখালী, রাঙামাটি সদর উপজেলাসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। অনেক পরিবার পাহাড়ের গভীর খাদে ঘর তৈরি করে বসতি গড়ে তুলেছে। কোনো কোনো স্থানে গাছ ও বাঁশ দিয়ে ৩ তলা সমান ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর সামান্য দুর্ঘটনাতেই ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এসব ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ২০১৮ সালের ১৩ জুন ভারী বর্ষণে কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড় ধসে ১২৮ জনের মৃত্যুর ভয়াবহ স্মৃতি এখনো দগদগে। ২০১৯ সালে মানিকছড়িতে পাহাড় ধসে একটি পরিবার মাটিচাপা পড়েছিল। প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন বন্ধ হচ্ছে না।
বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার আহমেদ বলেন, “বিপজ্জনকভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন বাসিন্দারা ঝুঁকিতে পড়ছেন, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। এটা থামানো জরুরি।”
৫ নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চিরনজিত তনচঙ্গ্যা বলেন, “২০১৮ সালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের পরও মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ঘরবাড়ি নির্মাণ বন্ধ করেনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙামাটি জেলা পরিষদের একজন সদস্য জানান, মূলত নিম্নআয়ের মানুষই এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। তিনি বলেন, “জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” বর্ষা শুরুর আগেই জেলা প্রশাসনের সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।