মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া ২৩০ কোটি টাকা, আদায় হতাশাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ ও সংস্থা খাতে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ২৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ এই বকেয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। আদায় বাড়াতে বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের চিঠি দেওয়া এবং মন্ত্রণালয়ে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২৩-২০২৪) চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা মিলে ভূমি উন্নয়ন করের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০২ কোটি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪২ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬২৫ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩.৮২ শতাংশ।

অন্যদিকে, সাধারণ খাতে খাজনা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ কোটি ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৪ টাকা। আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৫.৬৫ শতাংশ।

দুই খাত মিলিয়ে মোট ২৫৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার ৭৯২ টাকা। ফলে, বকেয়া রয়ে গেছে ২৩০ কোটি ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৪ টাকা।

সংস্থা খাতের বেহাল দশা

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া রয়েছে ১৯৪ কোটি ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। সীতাকুণ্ড, বাকলিয়া সার্কেল ও কর্ণফুলী উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কোনো আদায় হয়নি। এছাড়া, আগ্রাবাদ, সদর, কাট্টলী সার্কেল এবং রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় খাজনা আদায়ের হার ১ শতাংশের নিচে।

তুলনামূলক ভালো অবস্থানে সাধারণ খাত

সংস্থা খাতের তুলনায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার কিছুটা ভালো (৩৫.৬৫ শতাংশ)। সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলা এই খাতে এগিয়ে রয়েছে।

আদায় বাড়াতে তৎপর প্রশাসন

বকেয়া খাজনা আদায়ে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের চিঠি দেওয়ার জন্য উপজেলা ও সার্কেল ভূমি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া, সাধারণ খাতে হোল্ডিং অনুযায়ী খাজনা আদায় নিশ্চিত করতে এবং চলতি অর্থবছরে শতভাগ খাজনা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাঠকপ্রিয়