মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

খলিফাপট্টিতে ঈদের আমেজ: ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের দর্জিপাড়া খ্যাত খলিফাপট্টিতে এখন উৎসবের আমেজ। ঈদকে সামনে রেখে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি শ্রমিকরা। সেলাই মেশিনের খটখট শব্দে মুখরিত এই এলাকা এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট।

সিরাজদৌল্লা রোডের সাব এরিয়া বাজার সংলগ্ন খলিফাপট্টিতে মূলত শার্ট, প্যান্ট, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও স্কার্ট তৈরি হয়। এখানকার দর্জিরা পাইকারি ও অগ্রিম অর্ডারে কাজ করেন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন মার্কেটেও এখানকার পোশাকের চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, আবার কেউ কেউ পুঁতি ও লেইস লাগানোর কাজে ব্যস্ত। কাজের চাপ বেশি থাকায় দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর ধরে রমজানের ঈদের দিকে তাকিয়ে থাকেন তারা। বছরের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজই হয় ঈদকে কেন্দ্র করে। খলিফাপট্টির কারখানাগুলোতে ৩০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা মূল্যের পোশাক তৈরি হয়। দেশি-বিদেশি বাহারি ডিজাইনের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার ডিজাইন মাস্টাররা।

ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম শহর ও বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দূর-দূরান্তের জেলা থেকেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে পোশাক কিনতে আসেন। সারারা, গারারা, নায়রা ও লেহেঙ্গা তৈরিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন দর্জিরা।

খলিফাপট্টি বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন বলেন, “তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ছাড়াও কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং ফেনী থেকে প্রচুর ক্রেতা আসেন। অগ্রিম অর্ডার নিয়েও কাজ করা হয়। সুলভ মূল্যে বাহারি ডিজাইনের পোশাক তৈরি করেন আমাদের দর্জিরা। ভারতীয় পোশাকের আগ্রাসনের মধ্যেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। তবে, আমাদের কাপড়ের গুণগত মান অনেক ভালো।”

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ফেরিওয়ালা আইয়ুব আলী খলিফাপট্টিতে কাপড় তৈরির কাজ শুরু করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় আড়াইশ’ কারখানা রয়েছে, যেখানে কাজ করেন নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রমিকরা।

পাঠকপ্রিয়