মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

বে টার্মিনাল নির্মাণে গতি আনতে নতুন অ্যাকশন প্ল্যান: ১৫ হাজার কোটির মেগা প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী একশ বছরের বন্দর হিসেবে বিবেচিত বে টার্মিনাল নির্মাণে গতি আনতে নতুন অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আলাদা আলাদা প্রকল্প বাদ দিয়ে সমন্বিতভাবে একটি প্রকল্পের অধীনেই তিনটি বড় কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বে টার্মিনালকে ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দর নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নতুন বন্দর নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বে টার্মিনাল নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রকল্পটি শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। তাই প্রত্যাশিত গতি আনতে কর্তৃপক্ষ এবার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। বে টার্মিনালের তিনটি অংশকে (দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল এবং একটি মাল্টি পারপাস টার্মিনাল নির্মাণ, ব্রেকওয়াটার ও অ্যাকসেস চ্যানেল নির্মাণ, রাস্তা ও রেল সংযোগ সড়ক, ড্রেনেজ সিস্টেমসহ আনুষাঙ্গিক কাজ) একটি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘বে টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (বিটিএমআইডিপি)’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ব্রেকওয়াটার নির্মাণে ৮ হাজার ২৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, নেভিগেশন অ্যাকসেস চ্যানেল নির্মাণে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, নেভিগেশনে সহায়ক যন্ত্র স্থাপনে ৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং রেল ও সড়ক সংযোগসহ অন্যান্য স্থাপনার সংযোগে ৩ হাজার ৪৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে বড় অংকের অর্থায়ন করবে। ইতোমধ্যে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া, রেলওয়ে ও মহাসড়কের সংযোগ স্থাপনের জন্য আরও ১৯২ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংক ১০ হাজার ২৭২ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেবে। বাকি ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পরপরই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “বে টার্মিনাল নির্মাণে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। কিছুটা সময় লাগলেও দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

পাঠকপ্রিয়