সাবেক সংসদ সদস্যদের (এমপি) শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা বিলাসবহুল গাড়িগুলো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দফার নিলামে ৪৪টি গাড়ি তোলা হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না ওঠায় একটিও বিক্রি হয়নি। এর মধ্যে ২৪টি গাড়ি ছিল সাবেক এমপিদের। আমদানিকারকদের করা রিটের কারণে আরও ১৯টি গাড়ি আপাতত নিলামে তোলা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি এসব গাড়ির নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় ছিল। আগ্রহী ক্রেতারা ২ ও ৪ ফেব্রুয়ারি গাড়িগুলো দেখার সুযোগ পান। ১৭ ফেব্রুয়ারি দরপত্রের বাক্স খোলা হলেও প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায়নি। নিলামে ৪৪টি গাড়ির মধ্যে ছিল জাপানের তৈরি টয়োটা ব্র্যান্ডের ২৬টি ল্যান্ড ক্রুজার, পাঁচটি হ্যারিয়ার, দুটি র্যাভ ফোর, একটি এস্কয়ার এবং চীনের তৈরি হেভি ডিউটি সিনো ১০টি ডাম্প ট্রাক। এর মধ্যে ২৪টি ল্যান্ড ক্রুজারের দাম ধরা হয়েছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ তিন হাজার ৮৯৯ টাকা। মোট ১৩৭টি দরপত্র জমা পড়লেও সাবেক এমপিদের গাড়িগুলোর জন্য জমা পড়ে মাত্র ১৪টি। যেখানে দরদাতারা এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ তিন কোটি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করেন। নিলামে বিক্রি হওয়া গাড়ির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম নিলামে নির্ধারিত দরের ৬০ শতাংশ বা তার বেশি দর পেলে গাড়ি বিক্রির সুযোগ থাকে। কিন্তু সাবেক এমপিদের কোনো গাড়ির ক্ষেত্রেই সেই পরিমাণ দর পাওয়া যায়নি। ফলে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস সাবেক এমপিদের ২৪টিসহ মোট ৩০টি গাড়ি দ্বিতীয়বার নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, দ্বিতীয় দফার নিলামের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ১৯টি গাড়ির আমদানিকারকরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন। ফলে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই গাড়িগুলো নিলামে তোলা যাবে না। এই ১৯টির মধ্যে রয়েছে টয়োটা ব্র্যান্ডের দুটি ল্যান্ড ক্রুজার, পাঁচটি টয়োটা হ্যারিয়ার, দুটি টয়োটা র্যাভ ফোর, একটি টয়োটা এস্কয়ার এবং চীনের তৈরি হেভি ডিউটি সিনো ১০টি ডাম্প ট্রাক।
কাস্টমস হাউস আরও জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্যদের আমদানি করা আরও ৬টি গাড়ি নিলামে তোলার জন্য উপযুক্ত হয়েছে। এই গাড়িগুলোও দ্বিতীয় দফার নিলামে তোলা হবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাবেক সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় এই গাড়িগুলো আমদানি করেছিলেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গত ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং শুল্কমুক্ত সুবিধাও বাতিল করে দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরপর সাবেক সংসদ সদস্যরা আর গাড়িগুলো নিতে আগ্রহ দেখাননি।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)-এর সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন জানান, আমদানির ৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে গাড়ি ছাড় না করালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। আমদানিকারকরা সময় চেয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে, আদালত সাধারণত এক মাস পর্যন্ত সময় দিয়ে থাকেন। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধ করে গাড়ি ছাড় করানো যায়, ক্ষেত্রবিশেষে জরিমানা দিয়েও ছাড় করানোর সুযোগ থাকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়ি ছাড় না করালে সেগুলো নিলামে তোলার নিয়ম রয়েছে।
নিলামে ওঠা গাড়িগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামি গাড়িটি আমদানি করেছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাদিক। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার মডেলের এই গাড়িটির আমদানি মূল্য এক কোটি ছয় লাখ টাকা এবং এর শুল্ককর প্রায় আট কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সবচেয়ে কম দামি গাড়িটি এনেছিলেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনিসুজ্জামান। এক বছরের পুরোনো এই টয়োটা গাড়ির আমদানি মূল্য প্রায় ৬৮ লাখ টাকা এবং শুল্ককর পাঁচ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।