মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দুর্ঘটনার ফাঁদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মীরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা দুটি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও, এই দুটি পৌরসভায় নেই কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। বছরের পর বছর ধরে, শহর দুটির প্রতিদিনকার আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

১৯৯৯ সালে বারইয়ারহাট এবং ২০০০ সালে মীরসরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুই পৌরসভায় জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি নাগরিক সুবিধা। প্রতিদিন এই দুই শহর থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদিত হয়। স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায়, পৌর কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এসব বর্জ্য মহাসড়কের পাশে ফেলছে। বারইয়ারহাট পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পৌর বাজারের দক্ষিণ অংশে মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে। অন্যদিকে, মীরসরাই পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পৌর বাজারসংলগ্ন মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বাইপাস এলাকায়।

মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলায় তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। বর্জ্যের দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দুর্গন্ধে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝেমধ্যে এই বর্জ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুনের ধোঁয়ায় মহাসড়কের কিছু অংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে ধোঁয়ার কারণে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে, যাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

শুধু তাই নয়, মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার কারণে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আল আমিন জানান, তিনি পরিবার নিয়ে মহাসড়কের পাশে ভাড়া বাসায় থাকেন। পৌরসভার ফেলা বর্জ্যের দুর্গন্ধে তাদের বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পথচারী নুরুল আফছার বলেন, বর্জ্য ফেলার স্থান অতিক্রম করার সময় দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। এরকম অসংখ্য অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের।

এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কান্তি চাকমা জানান, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা ইতোমধ্যে ডাম্পিংয়ের জন্য ১ একর ৬৫ শতক জমি কিনেছেন। সরকারি বরাদ্দ পেলেই সেখানে একটি পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

মীরসরাই পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাইয়ুম উদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বারইয়ারহাট ও মীরসরাই পৌরসভার জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং তারপরই কাজ শুরু হবে।

পাঠকপ্রিয়