সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

সেন্টমার্টিনে কচ্ছপ প্রজননে সাফল্য: কৃত্রিম হ্যাচারিতে জন্ম নেওয়া ৭০০ বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য একটি দারুণ খবর এসেছে। চলতি মৌসুমে কৃত্রিম হ্যাচারিতে জন্ম নেওয়া প্রায় ৭০০ কচ্ছপের বাচ্চাকে সফলভাবে সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। গত ১০ দিনে (২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ) ধাপে ধাপে এই বাচ্চাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়। পরিবেশবাদীরা এই ঘটনাকে সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘আমার সেন্টমার্টিন’ নামক সংগঠনের সদস্যরা দ্বীপের বিভিন্ন স্থান থেকে আট শতাধিক কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করেন। সেন্টমার্টিনের গলাচিপার মেরিন পার্কে এই ডিমগুলোর সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১১১টি, ১ মার্চ ১৬৭টি, ২ মার্চ ৩৭টি, ৪ মার্চ ১৭১টি এবং ৬ মার্চ ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা সাগরে ছাড়া হয়। এর আগে আরও ১৭০টি বাচ্চা অবমুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৮৮টি বাচ্চা অবমুক্ত করা হয়েছে।

‘আমার সেন্টমার্টিন’-এর সমন্বয়ক আলী হায়দার জানান, সংগ্রহ করা ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফোটার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সাধারণত ডিম ফুটতে ৬০ দিন সময় লাগে।

সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক আয়াত উল্লাহ বলেন, “সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাসস্থল দিন দিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করে বাচ্চা ফোটানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ৮০০-এর বেশি ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। বাচ্চাগুলো সাগরে ফিরে যেতে পারছে, এটা আমাদের জন্য আনন্দের।”

সেন্টমার্টিনে কর্মরত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মী আবদুল আজিজ বলেন, “সেন্টমার্টিনকে কচ্ছপসহ সকল সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নিরাপদ প্রজননস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। ‘আমার সেন্টমার্টিন’ সংগঠনের সদস্যরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”

পাঠকপ্রিয়