চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরের বন্ধ হয়ে যাওয়া আমিন জুট মিল পরিচালনার পাশাপাশি জহুর হকার্স মার্কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে হকার পুনর্বাসনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে, উচ্চ ভাড়া এবং বর্তমান ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ এক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) টাইগারপাস নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।
মেয়র বলেন, পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াতে হলে চট্টগ্রামে একটি পাটশিল্প থাকা প্রয়োজন। আমিন জুট মিল চালু হলে দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়বে। তিনি আরও বলেন, “আমিন জুট মিল যদি থাকত, তাহলে কালকেই অভিযান চালিয়ে সমস্ত পলিথিন বের করে ফেলতাম।”
সিটি কর্পোরেশন আমিন জুট মিল টেকওভার করতে প্রস্তুত জানিয়ে মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে আলোচনা হয়েছে। তবে, প্রস্তাবিত ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে এবং ভাড়া কম হলে চসিক এ দায়িত্ব নিতে পারবে।
জহুর হকার্স মার্কেট প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ২০০ গণ্ডা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা এই মার্কেটে মাত্র ৭০০-৮০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে তিন থেকে পাঁচ হাজার হকারকে পুনর্বাসন করা সম্ভব। বর্তমান ব্যবসায়ীদের একাধিক দোকান দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা নিজেদের মালিক দাবি করে এতে রাজি হচ্ছেন না।
মেয়র আরও জানান, জিইসি মোড়ে সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে লিজ দেওয়াসহ অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
চসিকের আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের বিষয়ে মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে ৫৬২ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। তবে, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রগতি রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং যাদের কাজের মান ভালো পাওয়া গেছে, তাদের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুলাই মাসে আমিন জুট মিলসহ ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সিটি মেয়র মিলটি পরিদর্শন করেন।