সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

তারল্য সংকটে থাকা দুটি ব্যাংকে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন।

দুর্বল ব্যাংককে বাঁচাতে আবারও টাকা ছাপাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) এই দুটি ব্যাংকের তারল্য সহায়তার অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে, ব্যাংক দুটিকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ দাঁড়াল ২৮ হাজার ৪১০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে দেড় হাজার কোটি টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে। এর আগে, এই দুটি ব্যাংকসহ মোট ৯টি দুর্বল ব্যাংককে ২৫ হাজার ৯১০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পূর্বে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৪ হাজার কোটি টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিল। এছাড়াও, ন্যাশনাল ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ১০ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের শেষের দিকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে এলে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন। ফলে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ (সিআরআর) ও সরকারি সিকিউরিটিজ (এসএলআর) রাখতে ব্যর্থ হয়। তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে চলতি হিসাবে ঘাটতি পূরণ এবং টাকা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেন।

বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রথমে টাকা ছাপিয়ে ঋণ না দেওয়ার কথা বললেও, পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তিনি জানান, সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে তারল্য জোগান দেওয়া হলেও, সমপরিমাণ অর্থ বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে। এতে বাজারে তারল্যের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

গভর্নর আরও বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে।” তিনি জানান, বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার জন্য ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিল প্রবর্তন করা হয়েছে।

তবে গভর্নরের এই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত দুই মাসে ১০টি নিলামে বাজার থেকে মাত্র ৩ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা তোলা সম্ভব হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

পাঠকপ্রিয়