কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র (রিজিওনাল হাব) হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পদে পদে বাধা আসছে। প্রথমবারের মতো সাগরে ব্লক তৈরি করে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ চললেও, জমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি বিলম্বিত হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প নকশা অনুযায়ী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ৪.৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এই জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও, অধিগ্রহণকৃত ৯৭ একর জমিতে বসবাসকারী ৩,৩০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে, আজ শুক্রবার (১৪ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তাকে প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
বেবিচকের তৈরি করা সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে বর্তমানে প্রতিদিন ২৫-৩০টি যাত্রীবাহী এবং ৬-১০টি কার্গো বিমান ওঠানামা করে। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরটিকে একটি রিজওনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ এবং বিমানবন্দরের আশেপাশে বসতভিটা থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পুরনো ঝিনুক মার্কেটের ১৪টি দোকান ও বস্তিসহ ৪২টি পরিবারকে অপসারণ করা যাচ্ছে না।
এছাড়া, গণপূর্ত এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থাপনা থাকায় ৪.৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না। সেনাবাহিনীর দাবিকৃত ৬.৫৭ একর জমির মধ্যে ৪.৬৪ একর জমিতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সমুদ্রগর্ভে রানওয়ের কাজ ৯৬ শতাংশ এবং বাঁধের কাজ ৯৪ শতাংশ শেষ হয়েছে। সমুদ্রগর্ভে প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনসহ মেইনটেন্যান্স স্ট্রিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ হয়েছে ৮৩ শতাংশ। রানওয়ের চারপাশে নিরাপত্তা সীমানা প্রাচীর, নিরাপত্তা টহল রাস্তা এবং ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মাণের কাজ যথাক্রমে ২৬ শতাংশ ও ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দশ বছর আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও স্থানীয় বসতভিটা উচ্ছেদ সংক্রান্ত জটিলতায় তা বিলম্বিত হচ্ছে। রাত্রিকালীন ফ্লাইট চালু করতে না পারায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর, ৭৪৭-৪০০ এবং এয়ারবাস ৩৮০-এর মতো উড়োজাহাজ সহজেই ওঠানামা করতে পারবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৭৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে বেবিচক অর্থায়ন করছে।