গ্যাস সংকট মোকাবেলায় সরকার দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের উপর জোর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলা আগামী ২০২৬-২৯ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অনুসন্ধান কূপ, উন্নয়ন কূপ এবং ওয়ার্কওভার কূপ। বাপেক্স, বিজিএফসিএল এবং এসজিএফএল-এর মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে গ্যাসের সংকট বেড়েই চলেছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় একদিকে বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকার দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী সরকারের পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও বেশি অনুসন্ধানের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ব্যাপক হারে গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন করলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান ৫০টি কূপ খনন ও ১০০টি কূপ ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০০টি কূপ খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি অনুসন্ধান কূপ এবং ৩১টি ওয়ার্কওভার কূপ। নতুন এই ১০০ কূপ খনন কার্যক্রমের মধ্যে ১৫টি প্রকল্পের অধীনে ৬৯টি কূপ খনন করা হবে।
আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রকল্পের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে পেট্রোবাংলা ২০২৬-২৯ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাতিলের চিন্তা থাকলেও, এর সুফল বিবেচনা করে পূর্বের পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত তিনটি বিতরণ কোম্পানি এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকবে। বাপেক্স একাই ৬৯টি কূপ খনন করবে। বাকি ৩১টি কূপ খনন করবে বিজিএফসিএল ও এসজিএফএল।
দেশে গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা দৈনিক ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও, জাতীয় গ্রিডে পেট্রোবাংলার সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি কমাতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়া হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার প্রত্যাশা, বাপেক্স একাই ৬৯টি কূপ খননের মাধ্যমে ২০২৯ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ৯৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে।
পেট্রোবাংলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, দেশের প্রতিটি প্রান্তে দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনা করে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে প্রচুর কূপ খনন করা জরুরি। ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এলাকায় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি মনে করেন।