প্রতিবছর ঈদের সময় নতুন নোটের চাহিদা বাড়লেও, এবারে বাজারে নতুন নোট না আসায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বিনিময় স্থগিত করায়, বাজারে পুরনো নোটের দাম বেড়ে গেছে। এতে করে ক্রেতাদের আগ্রহও কমেছে।
চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট এলাকায় অস্থায়ী দোকানে নতুন নোট বিক্রি হয়। প্রতিবছর ঈদের আগে এসব দোকানে প্রচুর ভিড় থাকলেও এবারে ক্রেতা সমাগম কম। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন নোট না আসায় এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ টাকার নতুন নোট প্রায় পাওয়াই যাচ্ছে না। যে কয়েকটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে প্রতি বান্ডিল (১০০টি নোট) বিক্রি হচ্ছে ১,৪০০ থেকে ১,৪৫০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতিটি ১০ টাকার নোটের দাম পড়ছে ১৪ থেকে ১৪.৫০ টাকা। একইভাবে, ২০ টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২,৩৫০ থেকে ২,৪০০ টাকায়।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গতবছর রমজানে নতুন নোটের বান্ডিল প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হলেও, এবারে সেই দাম বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা হয়েছে।
প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বাজারে ছাড়লেও, এবারে ১০ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নোট বিনিময় স্থগিত করে। সূত্রমতে, টাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকা নিয়ে আপত্তি ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিউমার্কেট এলাকার প্রবীণ নোট বিক্রেতা কামাল হাওলাদার বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট দিচ্ছে না, তাই দাম বেশি। ক্রেতাও কম।” তিনি আরও জানান, এবারে ১০ টাকার নোটের সংকট বেশি।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, টাকার নকশায় পরিবর্তন আসছে। নতুন নকশায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির পরিবর্তে বিভিন্ন স্থাপনার ছবি থাকবে। এপ্রিল-মে মাসে নতুন নকশার নোট বাজারে আসতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে, এবারের ঈদে নতুন নোটের অভাবে পুরনো নোটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।