সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

আনোয়ারার ট্র্যাজেডি: তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অসহায় পিতা-মাতার সংগ্রাম

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াপঞ্চক গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক মো. কায়সারের পরিবারে নেমে এসেছে এক দুর্বিষহ ট্র্যাজেডি। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ন’টা মুখের খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। তার উপর, কায়সারের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী।

১৬ বছরের বড় ছেলে মো. রাসেল, ১৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আকতার এবং ৩ বছরের ছোট ছেলে মো. রোহান – কেউই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করে না, হাঁটতে গেলে ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়ে যায়। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের আচরণও স্বাভাবিক নয়, অনেক সময়ই উদ্ভট আচরণ করে বসে।

কায়সার জানান, “ছেলে-মেয়েদের এই অবস্থা দেখে বুক ফেটে যায়। কিন্তু কী করব? ভাড়ায় অটোরিকশা চালাই। প্রতিদিন কাজও পাই না। যা পাই, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। ওদের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই।”

কায়সারের স্ত্রী লাভলী বেগমের অবস্থাও শোচনীয়। সারাদিন প্রতিবন্ধী সন্তানদের দেখভাল করতে করতেই তার দিন কাটে। লাভলী বলেন, “তিনজনের গোসল করানো, খাওয়ানো, টয়লেটে নিয়ে যাওয়া—সবকিছু একা হাতে করতে হয়। ওদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। নিজের শরীরের দিকে তাকানোর সময় পাই না। এভাবে চলতে থাকলে আমি নিজেও বাঁচব না।”

প্রতিবেশীরা জানান, কায়সারের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। ঠিকমতো খাবার জোটে না, তার ওপর তিন-তিনজন প্রতিবন্ধী সন্তান। তারা আরও বলেন, “কায়সার খুব ভালো মানুষ। কিন্তু ওর কপালের দোষে আজ এই অবস্থা। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে এই পরিবারটির কী হবে, তা ভেবে পাই না।”

এদিকে, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, “একই পরিবারে একাধিক সদস্যের মধ্যে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা বিরল ঘটনা। তবে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা জিনগত কারণে এমনটি হতে পারে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এদের কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক রোগ নির্ণয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।”

কায়সার ও লাভলী দম্পতি সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তারা চান, তাদের সন্তানরা যেন একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারে, সমাজের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

আনোয়ারার ট্র্যাজেডি: তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অসহায় পিতা-মাতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ মার্চ ২০২৫, ১৩:৫৭

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াপঞ্চক গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক মো. কায়সারের পরিবারে নেমে এসেছে এক দুর্বিষহ ট্র্যাজেডি। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ন’টা মুখের খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। তার উপর, কায়সারের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী।

১৬ বছরের বড় ছেলে মো. রাসেল, ১৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আকতার এবং ৩ বছরের ছোট ছেলে মো. রোহান – কেউই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করে না, হাঁটতে গেলে ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়ে যায়। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের আচরণও স্বাভাবিক নয়, অনেক সময়ই উদ্ভট আচরণ করে বসে।

কায়সার জানান, “ছেলে-মেয়েদের এই অবস্থা দেখে বুক ফেটে যায়। কিন্তু কী করব? ভাড়ায় অটোরিকশা চালাই। প্রতিদিন কাজও পাই না। যা পাই, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। ওদের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই।”

কায়সারের স্ত্রী লাভলী বেগমের অবস্থাও শোচনীয়। সারাদিন প্রতিবন্ধী সন্তানদের দেখভাল করতে করতেই তার দিন কাটে। লাভলী বলেন, “তিনজনের গোসল করানো, খাওয়ানো, টয়লেটে নিয়ে যাওয়া—সবকিছু একা হাতে করতে হয়। ওদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। নিজের শরীরের দিকে তাকানোর সময় পাই না। এভাবে চলতে থাকলে আমি নিজেও বাঁচব না।”

প্রতিবেশীরা জানান, কায়সারের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। ঠিকমতো খাবার জোটে না, তার ওপর তিন-তিনজন প্রতিবন্ধী সন্তান। তারা আরও বলেন, “কায়সার খুব ভালো মানুষ। কিন্তু ওর কপালের দোষে আজ এই অবস্থা। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে এই পরিবারটির কী হবে, তা ভেবে পাই না।”

এদিকে, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, “একই পরিবারে একাধিক সদস্যের মধ্যে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা বিরল ঘটনা। তবে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা জিনগত কারণে এমনটি হতে পারে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এদের কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক রোগ নির্ণয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।”

কায়সার ও লাভলী দম্পতি সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তারা চান, তাদের সন্তানরা যেন একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারে, সমাজের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়।