সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, মিলবে ১২ ও ১৩ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার ও ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাসিক খাবারের বরাদ্দ (রেশন) উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ডব্লিউএফপি’র নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মাথাপিছু মাসিক ১২ মার্কিন ডলার সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা পাবেন। পূর্বে এই বরাদ্দ ছিল সাড়ে ১২ ডলার। অন্যদিকে, নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ ১৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ ডলার। এই পরিবর্তিত সহায়তা হার আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত চালু থাকবে বলে জানা গেছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার ডব্লিউএফপি’র কাছ থেকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ডব্লিউএফপি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা খাদ্য সহায়তা কমানোর পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রোহিঙ্গারা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছেন এবং এটি তাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।”

এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে তহবিল সংকটের কারণ দেখিয়ে ডব্লিউএফপি মাথাপিছু মাসিক খাদ্যসহায়তা সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ৬ ডলারে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল। এই ঘোষণায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় আশ্রয়শিবিরগুলোতে বর্তমানে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, “৬ ডলার বরাদ্দের ঘোষণায় আমরা চরম হতাশ হয়েছিলাম, কারণ সাড়ে ১২ ডলারেই মাস চলত না। এতে তরুণদের মধ্যে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ডব্লিউএফপি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় আমরা এখন অনেকটা দুশ্চিন্তামুক্ত ও খুশি।”

বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে ১৩ লাখের বেশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন, যার মধ্যে ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। গত প্রায় আট বছরেও কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পালিয়ে এসে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

পাঠকপ্রিয়