সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

নম্বর না বদলেই অপারেটর পরিবর্তন: সুবিধা জেনেও আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহক?

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুবিধা, যা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) নামে পরিচিত, ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চালু করে। দেশের সব জায়গায় সব অপারেটরের নেটওয়ার্ক সমান শক্তিশালী না হওয়ায় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এই সেবা চালু করা হলেও, উচ্চ ব্যয় এবং কিছু জটিল শর্তের কারণে এটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি।

অনেক ব্যবহারকারী, বিশেষ করে যারা গ্রামে বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে থাকেন, দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে সমস্যায় পড়েন। ঘরে বসে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমএনপি সেবা এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের বহু পুরনো ও পরিচিত নম্বরটি না বদলেই নিজেদের এলাকায় ভালো নেটওয়ার্ক প্রদানকারী অপারেটরের সংযোগ নিতে পারেন। শুধু নতুন অপারেটরের মিনিট, ইন্টারনেট বা এসএমএস প্যাকেজ কিনলেই হয়। বরিশালের উজিরপুরের বাসিন্দা সামিউর রহমানের মতো অনেকেই আছেন যারা বাড়িতে ভালো নেটওয়ার্ক পেতে এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

এমএনপি সুবিধা পেতে ইচ্ছুক গ্রাহককে প্রথমে তিনি যে নতুন অপারেটরের সেবা নিতে চান, তাদের সেবাকেন্দ্রে যেতে হবে। সেখানে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের (বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন) মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে আগের অপারেটরের কাছে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়। পুরোনো অপারেটরের কোনো বকেয়া (যেমন ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বা পোস্টপেইড বিল) থাকলে প্রক্রিয়াটি আটকে যেতে পারে। বকেয়া পরিশোধ থাকলে এবং পুরোনো অপারেটর ছাড়পত্র দিলে, নম্বর পোর্টেবিলিটি ক্লিয়ারিং হাউস নম্বরটি নতুন অপারেটরে স্থানান্তর করে দেয়। যদিও প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার কথা, নতুন সিম সক্রিয় হতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) একটি ফটোকপি সঙ্গে রাখা ভালো।

এমএনপি সেবা চালুর শুরুতে এর খরচ ছিল ১৫৮ টাকা (গ্রাহক ফি ৫০ টাকা + ভ্যাট + ১০০ টাকা সিম রিপ্লেসমেন্ট কর)। পরবর্তীতে সিম কর নিয়ে পরিবর্তন এলেও বর্তমানে সব মিলিয়ে গ্রাহককে ৪০৮ টাকা খরচ করতে হয়, যার মধ্যে ৩০০ টাকাই হলো সিমকর। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উচ্চ ফি এমএনপি সেবার জনপ্রিয়তা না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মোবাইল অপারেটরের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রাহক যেহেতু নতুন সিম কিনছেন না, তাই এই সিমকর আরোপ অযৌক্তিক। তার মতে, এই সেবার খরচ সর্বোচ্চ ৫০ টাকা হওয়া উচিত।

এছাড়াও, একবার অপারেটর পরিবর্তন করলে ৯০ দিন (গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে ৬০ দিন) অন্য কোনো অপারেটরে যেতে না পারার শর্তটিও গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করে বলে মনে করেন তিনি।

এমএনপি করার সময় পুরোনো অপারেটরে থাকা ব্যালেন্স (টাকা) বা ডেটা প্যাকেজ নতুন অপারেটরে স্থানান্তরিত হয় না। তবে বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো অপারেটরকে এই ব্যালেন্স ও ডেটা অন্তত দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে, যদি গ্রাহক এই সময়ের মধ্যে আবার আগের অপারেটরে ফেরত আসতে চান। আরও, প্রি-পেইড গ্রাহকরা কেবল প্রি-পেইড সংযোগে এবং পোস্ট-পেইড গ্রাহকরা পোস্ট-পেইড সংযোগেই পরিবর্তন করতে পারেন।

সার্বিকভাবে, এমএনপি একটি সম্ভাবনাময় সেবা হওয়া সত্ত্বেও, এর বাস্তবায়নে থাকা উচ্চ খরচ এবং কিছু কঠোর শর্তাবলী সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা সীমিত করে রেখেছে।

পাঠকপ্রিয়