চলতি শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাস পর অবশেষে সারা দেশের সকল শিক্ষার্থীর জন্য সব বিষয়ের পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, পাঠ্যবই পরিমার্জন, দরপত্র জটিলতা এবং কাগজ সংকটসহ নানা কারণে এবারের পাঠ্যবই বিতরণে নজিরবিহীন বিলম্ব ঘটে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এনসিটিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, গত ২৪ মার্চ সর্বশেষ পাঠ্যবই সরবরাহের অনুমোদন (পিডিআই) দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষার্থীর কাছেই বই পৌঁছে যাওয়ার কথা, যদিও কারিগরি স্তরের নবম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সামান্য ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
এই বিলম্বের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে পুরোনো শিক্ষাক্রমের আলোকেই বই ছাপাতে হয়েছে। এছাড়া, পাঠ্যবই পরিমার্জনের পাশাপাশি দরপত্র আহ্বান, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও চুক্তি সম্পাদনে দেরি এবং কাগজের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে ২০১০ সাল থেকে চলে আসা বছরের প্রথম দিন ‘বই উৎসব’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ এবার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। গত দু-তিন বছরও কিছু বিলম্ব ঘটলেও এবারের মতো পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি।
এদিকে, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গতকাল (সোমবার) থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়েছে। রাজধানীর নীলক্ষেতের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে সব বই পেয়ে বিতরণও সম্পন্ন করেছেন। সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কে এম ওবাইদুল্লাহ জানান, আগামীকাল (বুধবার) তাদের স্কুল খুলবে এবং এর আগেই তারা সব বই সংগ্রহ করেছেন। নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহারও নিশ্চিত করেছেন, ঈদের আগেই তার বিদ্যালয়ের ৫৩৬ জন ছাত্রী সব বই পেয়েছে। তবে ছুটির কারণে সকল বিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের (মাদ্রাসার ইবতেদায়িসহ) প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য মোট সাড়ে ৩৯ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৩০ কোটি ৪০ লাখ এবং প্রাথমিকে প্রায় ৯ কোটি ১৯ লাখ বই রয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিশ্চিত করতে এনসিটিবি এখন থেকেই বই ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (সদস্য, শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে সব বই সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী বছর যাতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা সব বই পেতে পারে, সে জন্য এখন থেকে বই ছাপানোর কাজের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।”
সম্প্রতি এনসিটিবির নিয়মিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান অবসরে যাওয়ায় অধ্যাপক চৌধুরী এই দায়িত্ব পালন করছেন।