পবিত্র মক্কা-মদিনার ধুলিকণা গায়ে মাখার স্বপ্ন চোখে, হৃদয়ে আল্লাহর ঘর তাওয়াফের আকুল আকাঙ্ক্ষা। জীবনে একবার হলেও সেই পুণ্যভূমি স্পর্শ করার বাসনা নিয়ে প্রতিবছর প্রস্তুতি নেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। কিন্তু বিশাল এই কর্মযজ্ঞ, সফরের খুঁটিনাটি নিয়ম-কানুন আর অজানা পথের বাঁক নিয়ে মনে সংশয়ও থাকে বিস্তর। হজযাত্রীদের মনের এই দ্বিধা দূর করে তাদের পথচলাকে সহজ ও নির্ভুল করার প্রয়াসে এগিয়ে এলো চট্টগ্রামের সরকার অনুমোদিত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ওভারসিজ এন্ড হজ্ব সার্ভিস। বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর কাপাসগোলা রোডের কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁর হলরুমটি হয়ে উঠেছিল এমনই এক জ্ঞানার্জন ও প্রস্তুতির আলোকিত কেন্দ্র।
কর্মশালায় আগত হজযাত্রীদের চোখে-মুখে ছিল জানার আগ্রহ আর আসন্ন সফরের পবিত্র উত্তেজনা। এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বিসমিল্লাহ ওভারসিজ এন্ড হজ্ব সার্ভিসের কর্ণধার আলহাজ্ব আবুল আনোয়ার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি কেবল হজযাত্রীদের স্বাগতই জানাননি, বরং আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় সেবা দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর কথায় ছিল সেবার উষ্ণতা, “আপনাদের এই পবিত্র সফর যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, প্রতিটি কাজ যেন হয় নির্ভুল ও সহজ—এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া ও প্রচেষ্টা। আমরা আপনাদের সফরের সঙ্গী, পথের নির্ভরযোগ্য সহায়তাকারী।”
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রধান অতিথি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সুপরিচিত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মমতাজ উদ্দিন কাদেরী। তিনি হজ্বের আধ্যাত্মিক মহিমা ও নিগূঢ় তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “হজ্ব শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালনের নাম নয়, এটি স্রষ্টার প্রেমে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার, আত্মশুদ্ধির এক আধ্যাত্মিক সফর। প্রতিটি পদক্ষেপে থাকে প্রভুর নৈকট্য লাভের ইশারা। তাই সঠিক জ্ঞানার্জন ও পরিপূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া এই মহান ইবাদতের পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পাওয়া কঠিন।” তিনি বিসমিল্লাহ ওভারসিজের এই সময়োপযোগী ও জরুরি উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন, যা হজযাত্রীদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে নিঃসন্দেহে।

কর্মশালাটিকে আরও তথ্যবহুল ও সমৃদ্ধ করেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সম্পাদক আবদুল মালেক এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) চট্টগ্রাম জোনের সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, সাউর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মহিউদ্দিন মাহবুব।
অন্যদিকে, হজ্বের আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক নিয়ম-কানুন নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ দেন বিসমিল্লাহ ওভারসিজের অভিজ্ঞ মোয়াল্লেম মাওলানা মনছুর আলম কুতুবী ও মাওলানা শামছুল ইসলাম হাকেমী।
হজ্ব ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে হাব সম্পাদক আবদুল মালেক জোর দিয়ে বলেন, “হজ্ব একটি সংবেদনশীল ইবাদত। ছোট্ট একটি ভুলও আপনার আজীবনের স্বপ্নময় এই ইবাদতের পরিপূর্ণতাকে ম্লান করে দিতে পারে। তাই প্রতিটি নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে নেওয়া ও মেনে চলা আবশ্যক।”
মোয়াল্লেম মাওলানা শামছুল ইসলাম হাকেমী হজযাত্রীদের সফরের অন্যতম পাথেয় হিসেবে ধৈর্য ধারণ এবং সহযাত্রী ও অন্যদের সাথে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার মানসিকতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন মো. মহিউদ্দীন ও মো. নোমান। তারা নিশ্চিত করেন যেন কর্মশালার প্রতিটি মুহূর্ত কার্যকর হয়। হজযাত্রীরা মন খুলে তাদের প্রশ্নগুলো করেন এবং বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের সকল সংশয় দূর করেন। হজ্বের ব্যবহারিক নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় দোয়া এবং মক্কা-মদিনার পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহের পরিচিতি যেন হজযাত্রীদের চোখের সামনে এক স্পষ্ট চিত্র এঁকে দেয়।
দিনশেষে এই কর্মশালাটি ছিল আসন্ন হজযাত্রীদের জন্য এক আলোর দিশারী। চোখে-মুখে তৃপ্তি আর হৃদয়ে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার নিয়ে হজযাত্রীরা ফিরে যান নিজ নিজ গৃহে, পবিত্র ভূমি পানে যাত্রার প্রস্তুতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে। বিসমিল্লাহ ওভারসিজ এন্ড হজ্ব সার্ভিসের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে হজযাত্রীদের আত্মিক যাত্রাকে আরও সুগম ও অর্থবহ করে তুলবে।