হজের খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। গত তিন বছরে এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেক আগ্রহী হজযাত্রী নিবন্ধন করেও শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ কেউ হজের পরিবর্তে ওমরা পালনের কথা ভাবছেন। যাত্রী কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও চট্টগ্রাম থেকে হজের ডেডিকেটেড ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে এনেছে।
আগে যেখানে লাখ দেড়েক টাকায় হজ করা যেত, সেখানে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঘোষিত প্যাকেজ মূল্য ৪ লাখ ৭৮ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে দুই সিটের রুম বা হারাম শরীফের কাছাকাছি উন্নতমানের হোটেলে থাকার সুবিধা নিলে এই খরচ ১০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ব্যক্তিগত খরচ মিলিয়ে হজ পালনে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগছে, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১২ হাজার মুসল্লি হজে গিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কিছু বেশি, আর ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮ হাজারে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের কিছু বেশি হজযাত্রী যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার প্রায় ৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও, সেই লক্ষ্য পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) চট্টগ্রাম জোনের নেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার হজযাত্রী কমেছে অন্তত ২৫ শতাংশ, আর তিন বছরের হিসাবে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তারা এর জন্য লাগামছাড়া খরচ বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন।
চট্টগ্রামের কয়েকটি হজ এজেন্সির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে নিবন্ধন বাতিল করছেন। এক পরিচালক বলেন, “মানুষ হজে যেতে চায়, কিন্তু বর্তমান আর্থিক চাপের কারণে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ হজপ্রত্যাশী বলেন, “জীবনে একবার হজ করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এখন যা খরচ, তা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে খরচ কমলে যাব, না হয় ওমরা করে আসব।”
যাত্রী কমে যাওয়ায় হজ ফ্লাইট পরিচালনাকারী একমাত্র সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে। গত বছর চট্টগ্রাম থেকে ২২টি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালিত হলেও এবার তা কমিয়ে ১৭টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি যাবে জেদ্দায় এবং ৩টি মদিনায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আল মামুন ফারুক জানান, আগামী ৩ মে চট্টগ্রাম থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে হজযাত্রী কমে যাওয়ায় ফ্লাইটও কমানো হয়েছে। এবার প্রায় সাত হাজার হজযাত্রী পরিবহন করা হবে।” তিনি আরও জানান, ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৪ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন।