আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে বসা অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে আশানুরূপ দর মিলছে না। গত বছরের তুলনায় এবার ইজারার অর্থে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সংস্থাটি। নগরের অত্যন্ত পরিচিত ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশের টিএসপি মাঠের হাটটি, যা গতবার (২০২৪) ১৪ লাখ সাড়ে ৬০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল, এবার দুই দফা দরপত্র আহ্বান করেও ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি দর পায়নি। অর্থাৎ শুধু এই একটি হাটেই চসিকের রাজস্ব কমতে পারে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, কোরবান উপলক্ষে এবার নগরে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও জেলা প্রশাসন ৮টি বাজার বসানোর অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বাজারের জন্য দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও ছয়টি বাজারের জন্য দরপত্রে ইজারাদাররা অংশ নিয়েছেন। দেরিতে অনুমতি পাওয়ায় একটি বাজারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে, ২০২৫) অনুষ্ঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় বাজারগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার কথা।
যে ছয়টি বাজারের জন্য দরপত্র জমা পড়েছে, সেগুলোতে সর্বোচ্চ মোট দর উঠেছে প্রায় দুই কোটি ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। অথচ গতবার (২০২৪) চসিক সাতটি অস্থায়ী বাজার ইজারা দিয়ে আয় করেছিল পাঁচ কোটি ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৩৭০ টাকা। এই হিসাবে, এবার সর্বোচ্চ দরদাতাদের চূড়ান্ত করা হলেও কোরবানি পশুর হাট থেকে চসিকের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “দুইবার দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত দর পাইনি। আসলে বর্তমানে এগ্রো ফার্মের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। অনেক কোরবানিদাতা ওখান থেকে গরু কেনেন। বাজারে এটার প্রভাব পড়ে। তাই হয়তো ক্রেতা কমে যাওয়ার শঙ্কা থেকে ইজারাদাররা কম দর দিচ্ছেন।”
এবারও বসতে পারে সাতটি অস্থায়ী হাট: চসিকের ব্যবস্থাপনায় এবার যে সাতটি অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট বসতে পারে সেগুলো হলো:
* ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট অথবা বহাদ্দারহাট এক কিলোমিটার হতে শাহ আমানত ব্রিজের উত্তর পাশ পর্যন্ত) – সর্বোচ্চ দর ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
* ৩৭নং উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের মুনিরনগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি জায়গা – সর্বোচ্চ দর ২০ লাখ ৫ হাজার টাকা।
* ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডস্থ সিডিএ বালুর মাঠ।
* ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ – সর্বোচ্চ দর ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।
* একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ – সর্বোচ্চ দর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
* ৪১ নং ওয়ার্ডের চরপাড়া আলমগীর সাহেবের মাঠ – সর্বোচ্চ দর ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।
* ৪১ নং ওয়ার্ডের বড়পোল খালপাড়ের মাঠ (ইজারার বিষয়ে মেয়র এখনও অনিশ্চিত)।
এছাড়া, ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়ে হাটের জন্য অনুমতি পেলেও দুই দফা দরপত্র আহ্বান করেও কোনো ইজারাদার দরপত্র সংগ্রহ করেনি। গত দুই বছর বাজারটি ইজারা দেওয়া হলেও অদূরে বিবিরহাট পশুর হাট থাকায় এটি তেমন জমেনি এবং ইজারাদাররা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এবার যদি বাজারটি বসে, তবে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে চসিকের।
চসিকের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভার পরই জানানো হবে।
জানা গেছে, দরপত্র আহ্বানের সময় বিগত তিন বছরের গড় মূল্যের উপর ৬ শতাংশ বৃদ্ধি করে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দর পড়েছে এই সরকারি মূল্যের চেয়েও কম। দ্বিতীয় দফায় গত ১৭ মে পাঁচটি বাজারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে মাত্র দুটিতে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া গেছে। এর আগে ৮ মে প্রথম দফায় আহূত দরপত্রেও চারটি হাটের মধ্যে দুটিতে দর সরকারি মূল্যের চেয়ে কম ছিল।
উল্লেখ্য, এই অস্থায়ী হাটগুলোর বাইরে চসিকের ব্যবস্থাপনায় তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে – সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১ থেকে ১০ জিলহজ্ব পর্যন্ত এই হাটগুলো পরিচালিত হবে।