মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পোশাক রপ্তানির উদ্যোগ, আগামী মাসেই চালুর আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত হয়ে পণ্য রপ্তানিতে সাম্প্রতিক কিছু বিধিনিষেধের মুখে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এয়ার কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। বিশেষত তৈরি পোশাক ইউরোপ-আমেরিকায় সরাসরি পাঠাতে কার্গো ভিলেজের দুটি স্ক্যানার মেশিনই সচল করা হয়েছে এবং পণ্য রাখার জন্য ১৭০ ও ১২০ টন ধারণক্ষমতার দুটি ওয়্যারহাউসও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী মাস থেকেই চট্টগ্রামের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সরাসরি পণ্য রপ্তানির এই সুবিধা পাবেন।

চট্টগ্রামে দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) পাশাপাশি ৪০০টিরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল অবস্থিত। কিন্তু এতদিন শাহ আমানত বিমানবন্দরে এয়ার শিপমেন্টের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে পণ্য ঢাকায় নিয়ে তারপর বিদেশে পাঠাতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়েট মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এয়ার শিপমেন্ট চালুর জন্য করণীয় বিষয়ে একটি অগ্রাধিকার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, “ভারত হয়ে পণ্য পরিবহনে (ট্রান্সশিপমেন্ট) জটিলতা দেখা দেওয়ায় আমরা বিকল্প পথ তৈরিতে জোর দিয়েছি। মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই কার্গো ফ্লাইট চালুর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে শেষ করা হচ্ছে।” তিনি জানান, ট্রাক থেকে কার্গো নামানোর পর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী চেকিং শেষে কাস্টমস যাচাই-বাছাই করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলারের মাধ্যমে পণ্য নির্দিষ্ট বিমানে তুলে রপ্তানি করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে ইতিহাদ এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরাসরি কার্গো পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা চালু থাকলেও ২০২১ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত চার বছর বিশেষায়িত কার্গো বিমান চলাচল বন্ধ থাকলেও যাত্রীবাহী বিমানে পণ্য পরিবহন করেছেন ব্যবসায়ীরা। ২০২২ সাল থেকে আমদানি কার্গো ফ্লাইটও বন্ধ থাকায় স্টেশনটি অনেকটাই অব্যবহৃত ছিল।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, বর্তমান কার্গো স্টেশনে ২৫০ টন আমদানি এবং ২০ টন রপ্তানি পণ্যের ধারণক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যমান ওয়্যারহাউস সক্ষমতা দিয়ে সপ্তাহে দুটি ওয়াইড বডি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম-চীন রুটে কার্গো ফ্লাইট চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, “চট্টগ্রামে এয়ার শিপমেন্টের ব্যবস্থা যত দ্রুত সম্ভব চালু করা দরকার। তবে মনে রাখতে হবে, এ সেবা যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা না হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।”

এমিরেটস ও ইতিহাদের স্থানীয় এজেন্ট ভয়েজার এভিয়েশনের ব্যবস্থাপক মোরশেদুল আলম জানান, শুধু কার্গো ফ্লাইট চালু করলেই হবে না, রপ্তানি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) এবং ‘আরএ-থ্রি’ স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ইউরোপে সরাসরি পণ্য পাঠাতে হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

পথের কাঁটা আট চ্যালেঞ্জ

এদিকে, শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে এয়ার শিপমেন্ট চালুর ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আটটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো: রপ্তানি এলাকায় এখনও ওয়েইং মেশিন স্থাপন না করা, পচনশীল পণ্যের কোল্ডস্টোরেজ বিকল থাকা, স্ক্যানিং মেশিন এলাকায় পুরকৌশল কাজ বাকি থাকা, বিমানবন্দরের পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটিমাত্র কাস্টমস সেটআপ, কার্গো ভবনের নিচতলায় সোনালী ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর না হওয়া, রপ্তানি কার্গোর জন্য বিশেষায়িত এলাকার অভাব, কার্গো ওয়্যারহাউস সম্প্রসারণ না হওয়া এবং কার্গো অপারেশনের জন্য স্থায়ী জনবলের অভাব।

তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

পাঠকপ্রিয়