চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাড়ে পাঁচ হাজার বন্দীর মধ্যে পাঁচজন অন্যদের চেয়ে আলাদা; তাদের মাথায় রয়েছে ‘লাল টুপি’। কারাবিধি অনুযায়ী, কারাগার বা হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের পুনরায় গ্রেপ্তারের পর শনাক্তকরণের জন্য এই বিশেষ টুপি পরানো হয়, যা তাদের জন্য এক ধরনের শাস্তিও বটে।
এই পাঁচজন হলেন- ফরহাদ হোসেন, মো. এমরান, ইকবাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন এবং মো. আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন জানান, কারাবিধি অনুযায়ী কারাগার থেকে পালানোর কারণেই এই পাঁচ বন্দীকে ‘লাল টুপি’ পরানো হয়েছে। তাদের কড়া পাহারায় রাখা হয়, যাতে তারা আবার পালাতে না পারেন।
কারা সূত্র জানায়, এই পাঁচজনের মধ্যে ফরহাদ হোসেন ২০২১ সালের ৬ মার্চ ভোরে চট্টগ্রাম কারাগারের একটি বিশেষ ওয়ার্ড থেকে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ৯ মার্চ তাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয় এবং তাতে তার এক বছরের সাজাও হয়। এর আগে তিনি একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে এসেছিলেন।
অন্য দুই বন্দী, লোহাগাড়ার একটি হত্যা মামলার আসামি ইকবাল হোসেন এবং সীতাকুণ্ডের একটি মাদক মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। পরে গত ৭ মে তাদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাগারে আনার পর তাদের মাথায় লাল টুপি পরানো হয়।
মো. এমরান নামে আরেক বন্দী চলতি বছরের ১ মে কারাগারের শৌচাগারের জানালা ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিনই তাকে একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে ওই দিন রাতেই তাকে বাড়ি থেকে আটক করে পুনরায় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।
অপরদিকে, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগার থেকে গত বছরের জুলাই মাসে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি মো. আনোয়ার হোসেনকেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কয়েকটি কারাগার ঘুরে গত মে মাসের শেষের দিকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হলে তার মাথায়ও লাল টুপি পরানো হয়।