সামনের ১৫ বছরে জাপানে এক কোটির বেশি কর্মীর চাহিদা থাকলেও ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতার অভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। যেখানে নেপাল, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলো প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জাপানে পাঠাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের সংখ্যাটি প্রায় ১০ গুণ কম।
বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাপানের শ্রমবাজার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে আসে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পলিসি অ্যাডভাইজার জিয়া হাসান প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন। তিনি দেখান, পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালে নেপাল থেকে ৯৪২ জন এবং বাংলাদেশ থেকে ৮৩১ জন কর্মী জাপানে গিয়েছিলেন, যা ছিল প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে নেপাল থেকে জাপানে কর্মী যাওয়ার হার প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে নেপাল ৫৬ হাজার ৭০৭ জন কর্মী পাঠালেও বাংলাদেশ থেকে গেছে মাত্র ৩ হাজার ৫৭৪ জন।
এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে জিয়া হাসান বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের প্রশিক্ষণের মান অপর্যাপ্ত। বেশির ভাগ প্রশিক্ষক জাপানি ভাষা ভালো জানেন না। এছাড়া জাপানি ভাষার উচ্চতর স্তর এন-ফোর কোর্সের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষকও নেই।”
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সালেহ আহমদ মোজাফফর বলেন, “ভাষা শিখতে প্রশিক্ষণার্থীদের ছয় মাস সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময় নিজেদের ব্যয় বহন করা সবার জন্য সম্ভব না হওয়ায় অনেকেই মাঝপথে ঝরে পড়ে। তাদের জন্য সরকারি ভাতা বা ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “জাল সনদপত্র ও ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টের কারণেও অনেক দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা পেতে জটিলতা হচ্ছে। জাপানের ক্ষেত্রেও ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ার এটি একটি বড় কারণ। এর জন্য এখন শাস্তির ব্যবস্থা জরুরি।”
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। আমরা একটি ‘জাপান সেল’ করেছি এবং একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইটও করা হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, জাপানি উদ্যোক্তাদের দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর (টিটিসি) দায়িত্ব নিয়ে জাপান থেকে বিশেষজ্ঞ এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।