মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ প্রশস্ত হচ্ছে, সমীক্ষা শেষ

৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ লেনের হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রায় ৬৬ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষা শেষে বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং বর্তমানে প্রকল্প সারপত্র (ডিপিপি) তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম এই মহাসড়কটিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে আগামী কয়েক দশকের চাহিদা মোকাবিলা করা সম্ভব হয় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যান চলাচল সম্পূর্ণ বাধাহীন হয়।

প্রকল্প অনুযায়ী, ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের মাঝের ছয়টি লেন হবে প্রবেশ-নিয়ন্ত্রিত (অ্যাক্সেস কন্ট্রোলড), যেখানে দূরপাল্লার যানবাহন নির্দিষ্ট গতিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া চলতে পারবে। এর দুই পাশে ধীরগতির ও স্থানীয় যান চলাচলের জন্য দুটি করে মোট চারটি সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া, যানজটপ্রবণ স্থানগুলোতে ওভারপাস নির্মাণ এবং সড়কের বিপজ্জনক বাঁকগুলো সোজা করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে ও সাসেক করিডোরের সঙ্গেও সংযুক্ত হবে।

প্রায় এক বছর আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এই মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু করে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইসির নেতৃত্বে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়াম প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান চার লেনের মহাসড়কটি বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যানবাহন ব্যবহার করায় বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতেই সরকার এই প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করছে।

জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটিতে অর্থায়নের জন্য এরই মধ্যে कई উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাও আগ্রহ দেখিয়েছে। ডিপিপি অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

পাঠকপ্রিয়