সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চসিকের সৌন্দর্যবর্ধন: অভিজ্ঞতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ই প্রাধান্য পাচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বরাদ্দে অভিজ্ঞতার চেয়ে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী, যাদের অনেকেরই এ ধরনের কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তারা কাজ পেতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না বলে এই অভিযোগ উঠেছে।

সিটি করপোরেশন (চসিক) সূত্র জানায়, নগরের ১১টি ওয়ার্ডে ৪০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকায় থাকা অন্তত ৩২ জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে জড়িত এবং মেয়র শাহাদাত হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

এর মধ্যে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইফতেখার উদ্দীনও রয়েছেন, যিনি নিজে স্বীকার করেছেন যে এ ধরনের কাজে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেন, “আগে কখনো সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়নি। তবে কাগজপত্র ঠিক থাকায় কাজ পেয়েছেন।”

চসিকের সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থায়নে যাত্রীছাউনি, সড়কে আলোকায়ন, বাগান ও সড়কদ্বীপে সবুজায়ন করতে পারে। এর বিনিময়ে তারা বিজ্ঞাপন প্রচার বা দোকান নির্মাণের মাধ্যমে অর্থ আয় করার সুযোগ পায়।

আদালতের রায়ে গত বছরের ৩ নভেম্বর মেয়রের দায়িত্ব নেন নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পূর্ববর্তী মেয়রের আমলে হওয়া সব সৌন্দর্যবর্ধন চুক্তি বাতিল করেন এবং নতুন করে প্রস্তাব আহ্বান করেন।

তবে এই দলীয়করণের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তৎকালীন মেয়রদের ঘনিষ্ঠ এবং ছাত্রলীগ, যুবদল ও আওয়ামী লীগের নেতারাই এসব কাজ পেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

যারা কাজ পাচ্ছেন

তালিকায় দেখা যায়, শুলকবহর ওয়ার্ডে কাজ পাওয়া ১৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদ হোসেন খান ও শহীদুল ইসলাম এবং নগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদল ও বিএনপির একাধিক নেতা।

জালালাবাদ ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মুজিবুর রহমান এবং ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আরও চারজন। একইভাবে মোহরা, ষোলোশহর, পাহাড়তলী, কাট্টলীসহ অন্যান্য ওয়ার্ডেও বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারাই কাজ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে নগর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, “স্থপতি দিয়ে নকশা করে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। সিটি করপোরেশন যাচাই-বাছাই করে সে নকশাকে যোগ্য মনে করেছে বলে কাজ দিয়েছে।”

সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম মন্তব্য করতে রাজি না হওয়ায় চসিকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত জানুয়ারিতে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছিলেন, দলীয় পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকেই কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “আগের মেয়ররা যা করতেন, বর্তমান মেয়রও তা-ই করছেন। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের লোকদের কাজ দিয়েছেন। মূলত সৌন্দর্যবর্ধনের নামে কাজ আর টাকা ভাগাভাগি হচ্ছে।”

পাঠকপ্রিয়