প্রায় সাড়ে চার হাজার যানবাহনের তীব্র সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, যা বাহিনীর দৈনিক টহল ও অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এক হাজারের বেশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। যানবাহন সংকটের কারণে অপরাধের খবরে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে ৪ হাজার ৪৪৭টি যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি টহলের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের, যার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৭টি। এছাড়া জরুরি অভিযানে ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপের সংকট রয়েছে ৫০৭টি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত এসইউভি বা জিপ গাড়ির ঘাটতি রয়েছে ৪৪৩টি।
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বলছেন, যানবাহনের অভাবে থানা পুলিশের টহলসহ নিয়মিত কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেসব থানায় গাড়ি ছিল সাত-আটটি, সেখানে এখন আছে দুই-তিনটি। গাড়ির টহল এখন প্রায় অসম্ভব। মোটরসাইকেল দিয়ে টিম করে কাজ চালাতে হচ্ছে, যার জন্য ‘রেসপন্স টাইম’ অনেক বেড়ে গেছে। আগে যেখানে খবর পাওয়ার ৭-১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাত, এখন সেটা ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টাও লাগছে।”
যানবাহনের এই ঘাটতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “আগে থেকেই বাহিনীতে যানবাহন সংকট ছিল। গত বছরের আন্দোলনে অনেক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ সংকট আরও তীব্র হয়। সংকটটি মূলত মাঠ পর্যায়ের গাড়িগুলোর, যা অভিযানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা এখন এক থানার গাড়ি দিয়ে অন্য থানায় কাজ চালাই। কিন্তু নির্বাচনের সময় সব থানারই একযোগে গাড়ি প্রয়োজন হবে। তাই এই সংকট নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশের ১ হাজার ১৪৬টি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, যাতে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। শুধু রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাতেই নয়টি গাড়িসহ অন্তত ৩৫টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর বলেন, “যানবাহনের ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা কাজ করছি। গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিটে গাড়ি দেওয়া হচ্ছে। থানাগুলোর অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি।”