সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

৪৩ হাজার ধারণক্ষমতার কারাগারে ৭৭ হাজার বন্দী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের কারাগারগুলো বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে দেড় গুণেরও বেশি বন্দীতে উপচে পড়ছে। সারা দেশের ৭০টি কারাগারে ৪২ হাজার ৮৮৭ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও সর্বশেষ ২৮ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী সেখানে ৭৭ হাজার ২৯১ জন বন্দী আটক রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার বেশি।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় ব্যাপক গ্রেপ্তারের কারণে বন্দীর সংখ্যা এতটা বেড়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে কারাগারগুলোতে বন্দী ছিল ৮৮ হাজার। পতনের পর ১২ আগস্ট সেই সংখ্যা কমে ৪৯ হাজারে দাঁড়ালেও পরবর্তী সময়ে যৌথবাহিনী ও পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলায় আসামি গ্রেপ্তার হতে থাকায় বন্দীর সংখ্যা আবারও বাড়তে থাকে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ৩২ জন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, ৪৭ জন সংসদ সদস্য, ৬৩ জন পুলিশ সদস্য এবং ২৮ জন আমলাসহ মোট ২১৪ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫৩ জন কারাগারে ডিভিশন পেয়েছেন।

এর বাইরেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন বন্দীর বয়স ৭০ বছরের বেশি। এছাড়া, বিভিন্ন মামলায় আড়াই হাজার নারী কারাগারে আছেন এবং তাদের সঙ্গে দুই শতাধিক শিশুও রয়েছে।

বন্দীর এই বিপুল চাপ সামলাতে সরকার নতুন পাঁচটি কারাগার চালুর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। এর অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জে একটি মহিলা কারাগারকে ‘বিশেষ কারাগার’ হিসেবে এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, লোকবলের অভাবে বাকি তিনটি কারাগার চালু করা যাচ্ছে না, তবে সেগুলো চালু হলে বন্দীর চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

পাঠকপ্রিয়