মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

মার্কিন শুল্কের ধাক্কা: বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কতটা টেকসই?

নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিমাত্রায় রপ্তানি নির্ভরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন করে শুল্ক আরোপকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।

সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এমন পর্যালোচনার পর ২০২৬ সালে নির্ধারিত এই উত্তরণ পেছানোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকারও এখন বিষয়টি নিয়ে নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী বিভাগ (ইউএন ডিইএসএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮১ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যেই অন্যতম প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র পোশাকের ওপর কার্যকর শুল্কহার বাড়িয়ে ৩৬.৫ শতাংশ করেছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রায় ২১ শতাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে উত্তরণ পেছানোর দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, বাণিজ্য সুবিধা হারালে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে শিল্প খাত।

অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনও বলেছেন, “প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া গ্র্যাজুয়েট হলে আমাদের দেশের জন্য অসম্ভব রকম ক্ষতির কারণ হবে। সংস্কারগুলো না করতে পারলে অবশ্যই গ্র্যাজুয়েশন পেছানো উচিত।”

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা হলেও তা যৌক্তিক প্রমাণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকেই বাংলাদেশ টানা তিনবার উত্তীর্ণ হয়েছে, যা একটি বিরল ঘটনা। ফলে উত্তরণ পেছাতে হলে বাংলাদেশকে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি বা তথ্যের গরমিলের মতো ‘শক্ত যুক্তি’ দাঁড় করাতে হবে।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা গেলেও প্রস্তুতির কাজ কোনোভাবেই থামানো যাবে না। তিনি বলেন, “আবেদন করে যদি তিন বছর সময় পাওয়া যায়, তারপরও গ্র্যাজুয়েশন হবে ২০২৯ সালে। সেই সময়ের মধ্যে তো প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনোভাবেই শৈথিল্য আনা যাবে না।”

পাঠকপ্রিয়