সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

৫২ কোটির ১৬টি কাজই পেল এক ঠিকাদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে তোলপাড়

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) ৫২ কোটি টাকার ১৬টি দরপত্র কারসাজি করে একটি মাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ‘রেট কোড’ সরবরাহসহ বিশেষ কৌশল নিয়ে ‘মেসার্স শামীম ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে সব কাজ পাইয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

ঠিকাদার রুম্মান শিকদারের অভিযোগে বলা হয়, সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ৫২ কোটি টাকার কাজকে ১৬টি প্যাকেজে ভাগ করে দরপত্র ডাকা হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস, প্রাক্কলনিক মারজান বেগম, হিসাব সহকারী খগেন্দ্র চন্দ্র নাথ, ক্যাশিয়ার শুভ নন্দী ও অফিস সহকারী এসএম ইকবালের সিন্ডিকেট যোগসাজশ করে সবকটি কাজ একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, দরপত্রে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজের অভিজ্ঞতাসহ এমন কিছু জটিল শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে বেশিরভাগ ঠিকাদার অংশ নিতে পারেননি। এই সুযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে সব কাজ দেওয়া হয়, যা ‘নজিরবিহীন অনিয়ম’।

নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ‘মেসার্স আরণ্যক’ নামে বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, খাগড়াছড়িতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সময় তার এই প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া কাজ পায়। ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশে তিনি চট্টগ্রামে যোগ দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। হিসাব সহকারী খগেন্দ্র চন্দ্র নাথ ও ক্যাশিয়ার শুভ নন্দী নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী দেখভাল করেন। প্রাক্কলনিক মারজান বেগম বলেন, “অফিসে বিভিন্ন সিন্ডিকেট কাজ করে। সবকিছু নির্বাহী প্রকৌশলী ডিল করেন।”

সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, “ই-জিপির মাধ্যমে সরকারি বিধান অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং যোগ্য ঠিকাদারই কাজ পেয়েছেন। আমার কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

৫২ কোটির ১৬টি কাজই পেল এক ঠিকাদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট ২০২৫, ১৫:০৭

চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) ৫২ কোটি টাকার ১৬টি দরপত্র কারসাজি করে একটি মাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ‘রেট কোড’ সরবরাহসহ বিশেষ কৌশল নিয়ে ‘মেসার্স শামীম ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে সব কাজ পাইয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

ঠিকাদার রুম্মান শিকদারের অভিযোগে বলা হয়, সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ৫২ কোটি টাকার কাজকে ১৬টি প্যাকেজে ভাগ করে দরপত্র ডাকা হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস, প্রাক্কলনিক মারজান বেগম, হিসাব সহকারী খগেন্দ্র চন্দ্র নাথ, ক্যাশিয়ার শুভ নন্দী ও অফিস সহকারী এসএম ইকবালের সিন্ডিকেট যোগসাজশ করে সবকটি কাজ একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, দরপত্রে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজের অভিজ্ঞতাসহ এমন কিছু জটিল শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে বেশিরভাগ ঠিকাদার অংশ নিতে পারেননি। এই সুযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে সব কাজ দেওয়া হয়, যা ‘নজিরবিহীন অনিয়ম’।

নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ‘মেসার্স আরণ্যক’ নামে বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, খাগড়াছড়িতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সময় তার এই প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া কাজ পায়। ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশে তিনি চট্টগ্রামে যোগ দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। হিসাব সহকারী খগেন্দ্র চন্দ্র নাথ ও ক্যাশিয়ার শুভ নন্দী নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী দেখভাল করেন। প্রাক্কলনিক মারজান বেগম বলেন, “অফিসে বিভিন্ন সিন্ডিকেট কাজ করে। সবকিছু নির্বাহী প্রকৌশলী ডিল করেন।”

সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, “ই-জিপির মাধ্যমে সরকারি বিধান অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং যোগ্য ঠিকাদারই কাজ পেয়েছেন। আমার কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়।”