সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দেশের ৪০% মানুষ নিরাপদ পানি পায় না, লক্ষ্য পূরণে লাগবে ৭৫ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে পানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং খোলা স্থানে মলত্যাগের অভ্যাস প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনার মতো ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও, দেশের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ এখনও নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। অগ্রগতির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও ৭৫ বছর লেগে যেতে পারে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘জয়েন্ট মনিটরিং প্রোগ্রাম (জেএমপি) ২০২৫’-এর সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) আওতায় প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষের কাছে পানির উৎস পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। কিন্তু জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু পানির উৎস থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ‘নিরাপদ পানি’ নিশ্চিত করতে হবে।

এই প্রতিবেদনে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাকে মূল্যায়ন করে অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “সবার জন্য পানি এবং সবার জন্য নিরাপদ পানি এক নয়। আমরা এমডিজিতে যে অর্জন করেছিলাম, সেটা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি এবং এখনো ভুগছি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনেক চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু নিরাপদ পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সক্ষমতা দেখাতে পারছি না।”

জাতিসংঘের সংজ্ঞামতে, নিরাপদ পানি হলো এমন পানি যা বাড়িতেই সহজে পাওয়া যায়, প্রয়োজনে সর্বদা লভ্য এবং ই-কোলাইয়ের মতো মলের জীবাণু ও আর্সেনিকের মতো রাসায়নিক দূষণমুক্ত। জেএমপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ৫৯ শতাংশ মানুষ এ ধরনের নিরাপদ পানি পাচ্ছে। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, গত প্রায় এক দশকে এই ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ।

নিরাপদ পানির সংকটের একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বুয়েট ক্যাম্পাসের সরবরাহ করা পানি পান করে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার ফলে অনেককে হল ছেড়ে যেতে হয় এবং কিছুদিন একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬০টিই আর্সেনিক দূষণের শিকার এবং অনেক স্থানের সরবরাহ করা পানিতেও মলের জীবাণু পাওয়া গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের ওয়াসার সরবরাহ করা পানিও অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি পানের উপযোগী নয়।

পানি খাতে ধীরগতির তুলনায় স্যানিটেশন খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি কিছুটা দ্রুত, বছরে গড়ে ১.১ শতাংশ হারে। তবে এই গতিতেও সর্বজনীন স্যানিটেশন নিশ্চিত হতে ২০৮৩ সাল লেগে যেতে পারে, যেখানে ভারত ২০৪১ ও নেপাল ২০৪৯ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেএমপি জানায়, এখনও দেশের প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ন্যূনতম স্যানিটেশন-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এবং ২ কোটি মানুষ হাত ধোয়ার মৌলিক সুবিধা ছাড়াই বসবাস করছে।

পাঠকপ্রিয়