সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

৯ মাসে গুলিতে নিহত অর্ধশতাধিক, জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৭ সীমান্ত পথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পিস্তল, রিভলভার ও রাইফেলসহ অত্যাধুনিক সব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চালান ঢুকছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে এসব অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এর মধ্যেই চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই বিভিন্ন সহিংসতায় দেশে ১৭০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মারা গেছেন। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গাসহ সীমান্তের অন্তত ১৭টি পয়েন্ট দিয়ে এসব অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো অভিযান অব্যাহত রেখেছে। র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র‍্যাবের অভিযানে প্রায় ১৩ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছর র‍্যাব লুট হওয়া অস্ত্রসহ মোট ৪৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।

র‍্যাব-৩ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যা মামলার আসামি মুশফিক উদ্দীন টগরকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তিনি সীমান্ত থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করতেন।

এদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে ৬০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া ১ হাজার ৩৫০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র পার্বত্যাঞ্চল ও আরসার কাছে চলে গেছে। অস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”

এরই মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, ইমামামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু এবং আসলাম হোসেন ওরফে সুইডেন আসলামের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীরা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, জামিনে থাকা এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা তরুণদের নিয়ে নতুন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলছে। সম্প্রতি রাজধানীতে জামাল হোসেন ও তাহমিনা রহমান নামে দুজনকে গুলি করে হত্যার পেছনেও এ ধরনের চক্রের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়