জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১৩ শতাংশ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করে, যা প্রতিবেশী দেশ ভুটানের (২৮%) চেয়েও অর্ধেকের কম।
আইএমএফের ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামষ্টিক-আর্থিক ঝুঁকি’ সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয় ও আয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতিকে দায়ী করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয় কম হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণযোগাযোগ ও মানবসম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে উন্নয়ন ধীরগতিতে হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতি শুধুমাত্র বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশ জিডিপির ১৩ শতাংশ ব্যয় করেছে, সেখানে ভারত ব্যয় করেছে ২৮.৫ শতাংশ, নেপাল ২৩ শতাংশ এবং পাকিস্তান ২০ শতাংশ। এমনকি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়া ২৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ১৮ শতাংশ ব্যয় করেছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বাংলাদেশে সরকারি ব্যয়ের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল জিডিপির ১৩.৩ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.২ শতাংশে নেমে আসে। গত অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ১৩.২ শতাংশ হলেও চলতি অর্থবছরে আবারও কমে ১২.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনের পাশাপাশি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ‘ফিসকাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট’ এও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারি আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতার অবনতি ঘটলেও গত এক দশকে বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মতো কিছু দেশে এক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।