চট্টগ্রামে মানসিক রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং অপচিকিৎসার প্রতি নির্ভরতা।
সাতকানিয়ার ১৭ বছর বয়সী ইমাম হোসেনের ঘটনা তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। হঠাৎ করে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর, চিকিৎসকের পরিবর্তে তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলস্বরূপ, অপচিকিৎসার কারণে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং মানসিক রোগ স্থায়ী রূপ ধারণ করে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. তারেক আবেদীন জানান, “মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলে ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এ কারণে অনেকেই বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার পরিবর্তে অপচিকিৎসার আশ্রয় নেন।”
চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগ হলো এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। কিন্তু মাত্র ৬০ শয্যার এই বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নেই। এমনকি কোনো অধ্যাপকও নিয়োজিত নেই এখানে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং শয্যার সংখ্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলায় মানসিক রোগের কোনো চিকিৎসক নেই। অন্য বিষয়ের চিকিৎসক দিয়ে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।