সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কমিশনিং শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ওয়াসার বহুল প্রতীক্ষিত ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রকল্পের ট্রায়াল রান চলছে এবং আগামী নভেম্বরের শেষের দিকে এই প্রকল্পের পানি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে শেষ মুহূর্তের কাজগুলো চলছে। প্রকল্পের ১৩০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন লাইন পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং প্রতিটি পয়েন্ট চেক করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিম পটিয়া কালারপুল ব্রিজ সংলগ্ন শিকলবাহা খালের মাটির তলদেশে পাইপলাইন বসানো নিয়ে জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজে এক বছরের বিলম্ব হয়। অবশেষে সব জটিলতা কাটিয়ে পাইপলাইনের কাজ শেষে গত এক সপ্তাহ ধরে কমিশনিংয়ের কাজ চলছে।

প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব শিল্প কারখানা পানি নেয়ার জন্য আবেদন করেছে সেগুলোতে পানি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী আবাসিক গ্রাহকদেরকেও পানি সরবরাহ করা হবে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, যেমন কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, সিইউএফএল, কাফকো ও পটিয়া ইন্দ্রপোলের লবণ কারখানা ইত্যাদিতে সুপেয় পানি সরবরাহ করা।

প্রকল্পের শুরুতে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও বর্তমানে সিইউএফএল এবং ড্যাপ কারখানা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পানি নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

প্রকল্পের আওতায় ছোট-বড় মোট ১৩টি বাণিজ্যিক সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রতিদিন ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর বোয়ালখালী-পটিয়ার আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে পটিয়ায় ৬০০ এবং বোয়ালখালীতে ১০০ টির মতো আবাসিক সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সাথে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা হয়। প্রকল্পের অর্থায়নে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক ৮২৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার অবশিষ্ট অর্থ প্রদান করেছে।

পাঠকপ্রিয়