মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

শেষ পর্ব

প্রবাসীদের সুরক্ষায় করণীয় কী?

তরিকুল হাসান

এই সিরিজের প্রথম পর্বে রোকেয়া ও নাজিমের মতো অসংখ্য প্রবাসী কর্মীর বঞ্চনা, শোষণ আর দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। তাদের জীবনের গল্পগুলো অভিবাসন খাতের গভীরে জমে থাকা অব্যবস্থাপনা এবং শোষণমূলক চর্চার প্রতিচ্ছবি। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, দারিদ্র্য আর কর্মসংস্থানের অভাব কীভাবে মানুষকে অনিশ্চিত প্রবাস যাত্রায় ঠেলে দেয় এবং সেখানে তারা কীভাবে প্রতারণার ফাঁদ ও আধুনিক দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হন, তা প্রথম পর্বের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সহ্য করা, এমনকি মানসিক সুস্থতা হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনাগুলো এই খাতের অন্ধকার দিককে স্পষ্ট করে। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)-এর জরিপে ফেরত আসা স্বাস্থ্যসেবাপ্রার্থী কর্মীদের ৪৮ শতাংশের মানসিক সমস্যায় ভোগার তথ্যটি এই সংকটের গভীরতা নির্দেশ করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গনে সংস্কারের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণ। এই প্রেক্ষাপটে, প্রায় দেড় কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী এবং তাদের পরিবারের ভাগ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর নিরিখে, এই শেষ পর্বে অভিবাসন খাতের সম্ভাব্য সংস্কার এবং কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণের পথরেখা অনুসন্ধান করা হবে, যা মূলত বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টদের মতামতের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

অভিবাসন খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অস্বচ্ছ, ব্যয়বহুল এবং প্রায়শই প্রতারণামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া। দালালদের দৌরাত্ম্য এবং কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন।

প্রথমত, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার, সেলিম রেজা এবং কে এম নূর-ই-জান্নাত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য একটি কার্যকর পারফরম্যান্স-ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম চালুর উপর জোর দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই র‍্যাঙ্কিং বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে: আন্তর্জাতিক নৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার (যেমন, আইওএম আইআরআইএস) সনদ অর্জন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও খরচের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিজস্ব ওয়েবসাইটে (বাংলায়) প্রকাশ, আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়মিত নিরীক্ষা, নিজস্ব জব পোর্টাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা, কর্মীদের দ্রুত ও স্বল্প খরচে ভিসা প্রসেসিং ও চাকরির ব্যবস্থা করার সক্ষমতা, কর্মী সন্তুষ্টির হার এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবাকেন্দ্র স্থাপন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঠিক এজেন্সি বেছে নিতে এবং এজেন্সিগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতে সহায়ক হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের এজেন্সিগুলোর জন্য ক্যাটাগরি সনদ প্রদানের সাম্প্রতিক ঘোষণা এই ধরনের একটি ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করে।

দ্বিতীয়ত, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, “ব্যক্তিগতভাবে সংগৃহীত ভিসা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণের নিয়মটি বন্ধ করে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসগুলোকে (ডেমো) শক্তিশালী করা প্রয়োজন।” তিনি আরও সুপারিশ করেন, এজেন্সিগুলোকে ভালো মানের কোম্পানি থেকে ভিসা সংগ্রহে উৎসাহিত করতে হবে এবং সাব-এজেন্টদের কার্যক্রমকে একটি নীতিমালার আওতায় আনতে হবে, যা দালালদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে।

তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের কাজের স্বীকৃতি এবং একটি ন্যূনতম ফি কাঠামো নির্ধারণ করা গেলে তাদের জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।

এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কারের পাশাপাশি বিদেশে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারী কর্মী এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা কর্মীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথম পর্বের প্রতিবেদনে রোকেয়ার মতো নারী কর্মীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছিল, যা বিদেশে, বিশেষত গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত নারীদের চরম ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে। অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নারী কর্মীদের সুরক্ষায় বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে: বিদেশে সেফ হোম প্রতিষ্ঠা, নির্যাতিতদের জন্য দ্রুত আইনি সহায়তা ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা, যৌন নির্যাতনের শিকার হলে বা তার ফলে সন্তানের জন্ম হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নেওয়া এবং শ্রম গ্রহণকারী দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে নারী কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে তার কঠোর প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

একইভাবে, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওকাপের গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা কর্মীদের প্রায় অর্ধেক মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং পুরুষ কর্মীরা এক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। এই ‘নীরব মহামারী’ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা, বিদেশে দূতাবাসগুলোতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা, এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত করা। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে বিদ্যমান ট্যাবু দূর করতে ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা, কারণ পরিবার ও সমাজের সহমর্মিতাই পারে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত একজন কর্মীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করতে।

এদিকে অভিবাসীদের সম্ভাবনা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদারের মতে, “যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো দেশে বসবাসরত উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার প্রবাসীরা সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম পেলে দেশের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাখাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে এবং জ্ঞান ও দক্ষতার বিনিময়ে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখতে পারেন।” তিনি ফিলিপাইনের ‘বালিক সায়েন্টিস্ট প্রোগ্রাম’ বা ভারতের ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ স্কিমের মতো উদ্যোগের উদাহরণ দেন, যা বাংলাদেশও বিবেচনা করতে পারে।

এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রের সংযোগ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী প্রবাসীদের ভোটাধিকারের দাবি বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বকর তার এক চিঠিতে দূতাবাসগুলোতে সেবার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। একইসাথে, দেশে নিরাপদ বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করাকে এই সংযোগ স্থাপনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

যারা দেশে ফিরে আসছেন, তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাকের মতো কিছু বেসরকারি সংস্থা তাৎক্ষণিক সহায়তা দিলেও, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত সরকারি পরিকল্পনা। খুলনার ইসলাম হোসেনের মতো কর্মীরা দেশে ফিরে ছোট ব্যবসা শুরু করতে চাইলেও পুঁজি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাধার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে উঠে এসেছে দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সহজ শর্তে ঋণ (যেমন শিকদারের প্রস্তাবিত ২% সুদে ঋণ), উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কথা। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং সমাজে তাদের পুনরায় সম্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লিখিত সংস্কার ও উদ্যোগগুলোর সাফল্য নির্ভর করছে অভিবাসন খাতের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং একটি শক্তিশালী জবাবদিহিতার কাঠামো নির্মাণের উপর।

প্রথমত, অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি এবং দক্ষতা ধরে রাখার জন্য একটি বিশেষায়িত ক্যাডার সার্ভিস চালুর প্রস্তাব করেছেন। তার মতে, বিএমইটি, ডেমো, টিটিসি, বোয়েসেল, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে সেগুলোকে আধুনিক ও অধিকতর সেবামুখী করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, অভিবাসন একটি বহুমাত্রিক বিষয় হওয়ায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক সিদ্দিকী একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন, যেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, নারী ও শিশু, শিক্ষা, শিল্প, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা থাকবেন, যা সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

তৃতীয়ত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দালাল ও অসাধু এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ করার দাবি দীর্ঘদিনের। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কেলেঙ্কারির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশের মাটিতে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কর্মী-বান্ধব করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সৌদি আরবের সাথে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগকে এই পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চতুর্থত, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রামরু, ওকাপ, ব্র্যাকের মতো গবেষণা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অভিবাসন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো, যেমন বিমানবন্দরে ভিআইপি সেবা, মালয়েশিয়া সংকট সমাধানে তৎপরতা, রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজীকরণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের ঘোষণা – এগুলো আশার সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি, প্রবাসীরাও তাদের অধিকার ও শক্তি সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হচ্ছেন, যা ‘রেমিট্যান্স ফাইটার্স’-এর মতো সংগঠনগুলোর ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমে প্রতিফলিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, ছাত্রসমাজ এবং গণমাধ্যমের সমর্থনও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই সম্মিলিত জাগরণ এবং সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলোই পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। দেশের অর্থনীতির এই নীরব চালিকাশক্তিদের জীবন থেকে বঞ্চনা ও দীর্ঘশ্বাসের অবসান ঘটানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা মনে করেন, এখন সময় এসেছে শুধু রেমিট্যান্সের অঙ্কের দিকে না তাকিয়ে অভিবাসীর মর্যাদা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার। একটি মানবিক, ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই সত্যিকার অর্থে উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে।

শেষ

পাঠকপ্রিয়