খুঁজুন
, ,
রবিবার, ৮ই নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

বাংলা জানেন না, তবু বাংলার মাটিতে খুঁজছেন আপনজন

বাংলা জানেন না, তবু বাংলার মাটিতে খুঁজছেন আপনজন
৪৫ বছর পর চকরিয়ায় ফিরে মা-বাবাকে খুঁজছেন নেদারল্যান্ডসের সেলিনা
৮ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪৯

হাতে একটি লিফলেট। তাতে ছাপা শৈশবের একটি ছবি আর দুটি নাম, হেলেনা গোমেজ ও বেনেডি গোমেজ।

এই দুটি নাম সম্বল করে কক্সবাজারের চকরিয়ার গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরছেন এক বিদেশি নারী। মানুষের দরজায় দাঁড়িয়ে জানতে চাইছেন, কেউ কি চেনেন তাঁদের?

তিনি সেলিনা গোমেজ। বয়স ৪৬। নাগরিকত্বে ডাচ, কিন্তু জন্ম এই চকরিয়ার মাটিতে। যে দুজনকে তিনি খুঁজছেন, তাঁরা তাঁর জন্মদাতা মা-বাবা।

সেলিনার জন্ম চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট এলাকায়, যা এখন নবগঠিত মালুমঘাট ইউনিয়নের অংশ। ১৯৮১ সালের ৭ জুলাই, মাত্র দেড় বছর বয়সে, দত্তক নেওয়া একটি পরিবারের সঙ্গে তিনি পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে।

এরপর কেটে গেছে ৪৫ বছর।

গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে এসেছেন সেলিনা। কয়েক দিন ধরে ডুলাহাজারা, মালুমঘাট, খুটাখালীসহ উপজেলার নানা এলাকায় পরিবারের খোঁজ করছেন তিনি।

তাঁর কাছে শৈশবের একটি ছবি আছে। আছে নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সময়ের পাসপোর্টের একটি ফটোকপি। সেখানে জন্মতারিখের পাশে জাতীয়তার ঘরে লেখা আছে, বাংলাদেশি।

ডাচ পরিবারে বেড়ে ওঠা সেলিনা বাংলা বলতে পারেন না। জন্মভূমির ভাষা তাঁর কাছে অচেনা। তবু শিকড়ের টান তাঁকে বারবার ফিরিয়ে আনছে এখানে।

ইংরেজিতে সেলিনা বলেন, ‘আমি আমার মা-বাবাকে খুঁজছি। তাঁদের খুব মিস করি। তাঁদের চেহারা মনে করতে পারি না, তবে জানি মায়ের নাম হেলেনা গোমেজ, বাবার নাম বেনেডি গোমেজ।’

একটু থেমে যোগ করেন, ‘নেদারল্যান্ডসে আমি একা বোধ করি। আশা করি, মা-বাবাসহ আমার পরিবারকে খুঁজে পাব।’

নিজের হারিয়ে যাওয়ার গল্পও শোনান তিনি। ‘আমার জন্ম মালুমঘাটে। দেড় বছর বয়সে একজন নারী আমাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি ডাচ পরিবার আমাকে দত্তক নিয়ে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যায়।’

দত্তক পরিবারের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই সেলিনার। বলেন, ‘তাঁদের কাছে আদর-যত্নেই বড় হয়েছি। কিন্তু আমার আসল পরিবার বাংলাদেশে। তাঁদের সঙ্গে আমি আবার এক হতে চাই।’

এই খোঁজ নতুন নয়। সেলিনার ভ্রমণসহকারী রাসেল আলম জানান, পরিবারের সন্ধানে এর আগেও কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন সেলিনা।

রাসেল বলেন, ‘এবারও তিনি আরও ১০ থেকে ১৫ দিন এখানে থাকবেন। আমরা একসঙ্গে তাঁর পরিবারকে খুঁজে পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

স্থানীয় লোকজনও পাশে দাঁড়িয়েছেন। মালুমঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার আনোয়ার হোসেন রোববার বিকেলে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সেলিনা গোমেজ মালুমঘাটে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথাও হয়েছে।’

তিনি জানান, ডুলাহাজারা ও মালুমঘাটের বিভিন্ন এলাকায় সেলিনার মা-বাবার খোঁজ চলছে। খবর পেলেই তাঁকে জানানো হবে। উপজেলার সব এলাকার মানুষের কাছে সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

সেলিনার পরিবারের কোনো খোঁজ কেউ জানলে, অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের কাছে তাঁর আসার খবর পৌঁছালে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন রাসেল আলম। ফোন: ০১৭১৮-৬০৪৩৪৭। ই-মেইল: findfamily1402@gmail.com

সাড়ে চার দশক আগে যে শিশুটি এই মাটি ছেড়ে গিয়েছিল, সে আজ ফিরে এসেছে একটি ছবি আর দুটি নাম নিয়ে। এখন অপেক্ষা শুধু একটি সাড়ার।

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রথমবার মন্তব্য করলে তা মন্তব্য নীতি অনুযায়ী যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়।

সারাদেশ থেকে আরও