গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও রেঞ্জ মিলিতভাবে ৭,১৮০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
এই গ্রেপ্তারের মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দায়ী আসামি সহ মাদক, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি সহ অন্যান্য অপরাধীদেরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের দুই মাসের মধ্যে গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পুলিশের তৎপরতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১,২৪৯ জন, ঢাকা রেঞ্জে ১,৩৩ জন এবং রাজশাহী রেঞ্জে ৮৬৪ জনের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ ৭৬৩ জন এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৪০০ জন গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা
গ্রেপ্তারের তালিকায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় দায়ী গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের পাশাপাশি গত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও দলের নেতা-কর্মীদেরও রয়েছে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবীরা অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণস্বরূপ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং সাবেক এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া নেতৃবৃন্দের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়াও, অস্ত্রধারীদের ধীরে ধীরে গ্রেপ্তারের সমালোচনা চলছে।
সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন এমন অনেকেই অবৈধভাবে দেশত্যাগ করে রয়েছে বলে জানা গেছে, যা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের কার্যক্রমে পরিবর্তন
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ইনামুল হক জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমদিকে থানাগুলোর কার্যক্রম ছিল খুবই সীমিত। কিছু থানায় কার্যক্রম শুরু হলেও তা ছিল নামমাত্র। তবে, বর্তমান সময়ে নতুন নেতৃত্বে পুলিশ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “অপরাধের উচ্চতর এলাকা গুলোতে গ্রেপ্তার সংখ্যা বেড়েছে। তবে, অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া কোনো বিশেষ অভিযান বর্তমানে চলছে না।”
দুর্গাপূজা সময়ে বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে গুলি করা ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দাবি করা হয়েছে, যা সরকার গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ রোধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ঘুষ, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়।