সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চাকরি ফিরিয়ে না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এসআইবিএল কর্মীদের

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চাকরি ফিরিয়ে দেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে বেসরকারি খাতের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) চাকরিচ্যুত কর্মীরা চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেছেন।

মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ৩ শতাধিক কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন। কোনো নোটিশ ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ “প্রভিশন পিরিয়ড” শেষ না হওয়ায় চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয়নি বলে জানিয়েছে। এই ৬৭২ জন কর্মীর চাকরিচ্যুতির ফলে তাদের পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মীরা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের কাছে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার বোরহান উদ্দিন বলেন, “গত তিন মাস সংকটকালে আমরা ব্যাংকে অমানবিক কষ্ট করেছি। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করেছি। অথচ, একটি নোটিশে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।”

আরেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার আকতারুন নবী বলেন, “আমরা সবাই অন্যান্য চাকরি থেকে ভালো ভবিষ্যতের আশায় চাকরি ছেড়ে এসেছি। এখন আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রচার করছেন আমাদের নিয়োগ নাকি অবৈধ। অথচ, আমরা ব্যাংকের সব নিয়মকানুন মেনেই চাকরিতে জয়েন করেছি। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৩০ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি। আমরা আমাদের চাকরি ফেরত চাই। না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার মোহাম্মদ আরিফ, মো. মনজুর আলম হিরু, ইব্রাহিম নূর সাইমন এবং সাইফুল ইসলাম।

মানববন্ধন শেষে তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৩টি দাবি তুলে ধরেন:

১. চাকরিচ্যুত কর্মীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল।

২. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদকে এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া প্রবর্তন।

চাকরিচ্যুত কর্মীরা চাকরি ফিরে না পেলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

চাকরি ফিরিয়ে না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এসআইবিএল কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ নভেম্বর ২০২৪, ১৩:১৮

চাকরি ফিরিয়ে দেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে বেসরকারি খাতের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) চাকরিচ্যুত কর্মীরা চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেছেন।

মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ৩ শতাধিক কর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন। কোনো নোটিশ ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ “প্রভিশন পিরিয়ড” শেষ না হওয়ায় চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয়নি বলে জানিয়েছে। এই ৬৭২ জন কর্মীর চাকরিচ্যুতির ফলে তাদের পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মীরা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের কাছে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার বোরহান উদ্দিন বলেন, “গত তিন মাস সংকটকালে আমরা ব্যাংকে অমানবিক কষ্ট করেছি। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করেছি। অথচ, একটি নোটিশে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।”

আরেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার আকতারুন নবী বলেন, “আমরা সবাই অন্যান্য চাকরি থেকে ভালো ভবিষ্যতের আশায় চাকরি ছেড়ে এসেছি। এখন আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রচার করছেন আমাদের নিয়োগ নাকি অবৈধ। অথচ, আমরা ব্যাংকের সব নিয়মকানুন মেনেই চাকরিতে জয়েন করেছি। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৩০ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি। আমরা আমাদের চাকরি ফেরত চাই। না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার মোহাম্মদ আরিফ, মো. মনজুর আলম হিরু, ইব্রাহিম নূর সাইমন এবং সাইফুল ইসলাম।

মানববন্ধন শেষে তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৩টি দাবি তুলে ধরেন:

১. চাকরিচ্যুত কর্মীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল।

২. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদকে এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া প্রবর্তন।

চাকরিচ্যুত কর্মীরা চাকরি ফিরে না পেলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।