চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে এক নারী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তকে চাকরিচ্যুত করা হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি এবং প্রায় দুই মাস পর রোববার (৩০ আগস্ট) ওই গৃহকর্মীর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় দুই মাস আগে ওই নারী পেটের তীব্র ব্যথা নিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই নারী ইউএনওর সরকারি বাসভবনে মালি হিসেবে কর্মরত এক পুরুষ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। এরপর তৎকালীন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে কাজ থেকে সরিয়ে দিলেও থানায় কোনো মামলা দায়ের করেননি।
অভিযোগ ওঠার পর তৎকালীন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার বক্তব্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। রোববার সেই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ওই নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট এনামুল হক জানান, ঘটনা জানার পরও অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা, তথ্য গোপন বা আলামত নষ্ট করলে দণ্ডবিধির ২০১ বা ১০৯ ধারা অনুযায়ী ইউএনও অপরাধ গোপনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।
অ্যাডভোকেট এনামুল হক আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনে কর্মরত কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকের দায়িত্ব। তা পালনে ব্যর্থ হওয়া এবং তাৎক্ষণিক মামলা না করা প্রশাসনিক অসদাচরণের শামিল।
এদিকে ঘটনাটি প্রায় দুই মাস ধরে আড়ালে থাকার পর ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে সাতকানিয়া থেকে বদলি করা হয়েছে। বদলির পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
