সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

নতুন দল, পুরোনো শঙ্কা: এনসিপি কি পারবে প্রত্যাশা পূরণ করতে?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আত্মপ্রকাশের দিনেই দলটি বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (তারিখ অনির্দিষ্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো তরুণের উপস্থিতিতে এনসিপি-র আত্মপ্রকাশ ঘটে। তরুণ নেতারা বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানপন্থি রাজনীতি বন্ধ, দিনের ভোট রাতে হওয়া রোধ, পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি ভেঙে দেওয়া, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ গঠন এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়াও, তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াই সূচনা এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণদের এই অঙ্গীকারগুলো ইতিবাচক হলেও, মাঠের রাজনীতিতে এগুলো বাস্তবায়ন করাই হবে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অতীতে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে মানুষের এত বেশি আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়নি। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ করা এনসিপির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

তবে এনসিপি নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশের দ্বি-দলীয় ও পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তুত। দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল সব সমস্যা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থাকে। এই চিন্তা-চেতনা থেকে সবাই প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের কাছে যাবেন। এমন সুস্থ গণতন্ত্রের জন্যই আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি।”

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার নতুন দলটির আত্মপ্রকাশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা করছেন, দলটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক হবে, আইন মেনে চলবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তারা যে অঙ্গীকার ও ঘোষণা দিয়েছেন – জনগণ তা ইতিবাচক হিসাবে নিয়েছে।”

দল ঘোষণার পর এখনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করেনি এনসিপি। চলতি সপ্তাহে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

নতুন দল, পুরোনো শঙ্কা: এনসিপি কি পারবে প্রত্যাশা পূরণ করতে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মার্চ ২০২৫, ১১:০১

জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আত্মপ্রকাশের দিনেই দলটি বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (তারিখ অনির্দিষ্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো তরুণের উপস্থিতিতে এনসিপি-র আত্মপ্রকাশ ঘটে। তরুণ নেতারা বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানপন্থি রাজনীতি বন্ধ, দিনের ভোট রাতে হওয়া রোধ, পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি ভেঙে দেওয়া, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ গঠন এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়াও, তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াই সূচনা এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণদের এই অঙ্গীকারগুলো ইতিবাচক হলেও, মাঠের রাজনীতিতে এগুলো বাস্তবায়ন করাই হবে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অতীতে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে মানুষের এত বেশি আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়নি। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ করা এনসিপির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

তবে এনসিপি নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশের দ্বি-দলীয় ও পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তুত। দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল সব সমস্যা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থাকে। এই চিন্তা-চেতনা থেকে সবাই প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের কাছে যাবেন। এমন সুস্থ গণতন্ত্রের জন্যই আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি।”

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার নতুন দলটির আত্মপ্রকাশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা করছেন, দলটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক হবে, আইন মেনে চলবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তারা যে অঙ্গীকার ও ঘোষণা দিয়েছেন – জনগণ তা ইতিবাচক হিসাবে নিয়েছে।”

দল ঘোষণার পর এখনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করেনি এনসিপি। চলতি সপ্তাহে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।