সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

কক্সবাজার শহরের বুকে ৪০০ বছরের পুরনো এক অলৌকিক মসজিদ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

কক্সবাজার শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী এক দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। সোনালি গম্বুজ এবং সাদা ও গোলাপির মিশ্রণে তৈরি নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে এক অপরূপ সৌন্দর্য। এর স্থাপত্যশৈলী ও গঠন এতটাই নান্দনিক যে, দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরাও এটি দেখতে আসেন।

মসজিদটি কক্সবাজার শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সড়কের পাশে অবস্থিত। উত্তর-দক্ষিণে ৩৪ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৬ ফুট আয়তনের এই মসজিদ চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর একটি দরজা (উচ্চতা ৫ ফুট) এবং দুটি জানালা (উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট, প্রস্থ ৩ ফুট) রয়েছে। মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৫ ফুট চওড়া। সম্পূর্ণ চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি এই মসজিদে লোহা ব্যবহার করা হয়নি।

মসজিদটির ভেতরের পরিবেশ সবসময় আরামদায়ক থাকে। প্রচণ্ড গরমেও এর ভেতরটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানের মতো ঠান্ডা থাকে, আবার শীতকালে থাকে উষ্ণ। মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে মুঘল স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি বিশালাকৃতির একটি গম্বুজ মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি বিশাল দিঘি।

মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মুঘল ধাঁচের কারণে কেউ কেউ মনে করেন, এটি সুবেদার শাহ সুজার সময়কালে (১৬১৬-১৬৬১) নির্মিত। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর মতে, এর বয়স ৪০০ বছর হতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, ১৮৬১ সালের দিকে সাচী চৌধুরী নামে এক দানশীল ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন। তাই এর আরেক নাম ‘সাচী চৌধুরী মসজিদ’। সাচী চৌধুরীর আদি নিবাস ছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। তিনি ১৮৫৪ সালে কক্সবাজার মহকুমা হওয়ার পর এখানে এসে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁর নামেই গ্রামের নাম হয় চৌধুরী পাড়া।

১৯৬০ ও ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মসজিদটি অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকে। এমনকি আশপাশের পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হলেও এর কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। অনেকে বিশ্বাস করেন, মসজিদে জিনেরা নামাজ পড়ে।

মসজিদটি কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে এবং নামাজের স্থান বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা গভীর রাত পর্যন্ত এখানে ইবাদত করেন।

মসজিদের খতিব মাওলানা আমান উল্লাহ কক্সবাজারের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এই মসজিদের সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

কক্সবাজার শহরের বুকে ৪০০ বছরের পুরনো এক অলৌকিক মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৫, ১৭:৫৭

কক্সবাজার শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী এক দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। সোনালি গম্বুজ এবং সাদা ও গোলাপির মিশ্রণে তৈরি নকশা মসজিদটিকে দিয়েছে এক অপরূপ সৌন্দর্য। এর স্থাপত্যশৈলী ও গঠন এতটাই নান্দনিক যে, দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরাও এটি দেখতে আসেন।

মসজিদটি কক্সবাজার শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সড়কের পাশে অবস্থিত। উত্তর-দক্ষিণে ৩৪ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৬ ফুট আয়তনের এই মসজিদ চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর একটি দরজা (উচ্চতা ৫ ফুট) এবং দুটি জানালা (উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট, প্রস্থ ৩ ফুট) রয়েছে। মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৫ ফুট চওড়া। সম্পূর্ণ চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি এই মসজিদে লোহা ব্যবহার করা হয়নি।

মসজিদটির ভেতরের পরিবেশ সবসময় আরামদায়ক থাকে। প্রচণ্ড গরমেও এর ভেতরটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানের মতো ঠান্ডা থাকে, আবার শীতকালে থাকে উষ্ণ। মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে মুঘল স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি বিশালাকৃতির একটি গম্বুজ মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি বিশাল দিঘি।

মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মুঘল ধাঁচের কারণে কেউ কেউ মনে করেন, এটি সুবেদার শাহ সুজার সময়কালে (১৬১৬-১৬৬১) নির্মিত। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর মতে, এর বয়স ৪০০ বছর হতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, ১৮৬১ সালের দিকে সাচী চৌধুরী নামে এক দানশীল ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন। তাই এর আরেক নাম ‘সাচী চৌধুরী মসজিদ’। সাচী চৌধুরীর আদি নিবাস ছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। তিনি ১৮৫৪ সালে কক্সবাজার মহকুমা হওয়ার পর এখানে এসে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁর নামেই গ্রামের নাম হয় চৌধুরী পাড়া।

১৯৬০ ও ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মসজিদটি অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকে। এমনকি আশপাশের পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হলেও এর কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। অনেকে বিশ্বাস করেন, মসজিদে জিনেরা নামাজ পড়ে।

মসজিদটি কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে এবং নামাজের স্থান বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা গভীর রাত পর্যন্ত এখানে ইবাদত করেন।

মসজিদের খতিব মাওলানা আমান উল্লাহ কক্সবাজারের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এই মসজিদের সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন।