সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী দারোগা মসজিদ: কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে একটি স্থাপত্য

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার মধ্য রূপকানিয়া গ্রামে অবস্থিত হেদায়েত আলী চৌধুরী মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘দারোগা মসজিদ’ নামে পরিচিত, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ১১৫ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন।

মসজিদটি ১৯১০ সালে সাতকানিয়ার ইছামতিরকুল এলাকার উজির আলী চৌধুরী বাড়ির সন্তান হেদায়েত আলী চৌধুরী নির্মাণ করেন। তিনি ব্রিটিশ আমলে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় দারোগা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি সাড়ে ছয় কানি জমি দান করে মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মসজিদটি ১৪টি ছোট-বড় মিনার এবং তিনটি গম্বুজ বিশিষ্ট। এর প্রবেশপথে রয়েছে কারুকার্য খচিত চারটি মিনার এবং একটি ফিরোজা রঙের গম্বুজ সহ একটি বিশাল ফটক। মসজিদের চারপাশে রয়েছে কারুকাজ করা সীমানা দেয়াল। মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটি মাদ্রাসা এবং মধ্য রূপকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। উত্তর পাশে রয়েছে স্থানীয় কবরস্থান। ২০০৬ সালে মসজিদের সামনের খালি জায়গা সংস্কার করে নামাজের স্থান হিসেবে মূল মসজিদের সাথে যুক্ত করা হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন জানান, হেদায়েত আলী চৌধুরীর উদ্যোগে নির্মিত এই মসজিদটি এলাকার মানুষের কাছে গর্বের বিষয়। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু তৈয়ব (৬৪) বলেন, মসজিদের উঁচু গম্বুজগুলোর কারণে ভেতর প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা থাকে। অনেক পথচারী ও দর্শনার্থী মসজিদে বিশ্রাম নেন এবং এর নির্মাণশৈলী দেখতে আসেন।

দর্শনার্থী আবদুল জব্বার বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মসজিদের কথা শুনে আসছেন এবং এটি প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, মসজিদটি নির্মাণে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা থেকে ইট, পাথর, সুরকি আনা হয়েছিল এবং কারিগরদেরও সেখান থেকে আনা হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর লেগেছিল।

হেদায়েত আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী রহিমুন্নেসা এবং একমাত্র মেয়ে মোছাম্মৎ ফাতেমা মসজিদের দেখাশোনা করতেন। বর্তমানে মসজিদটি একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরি আনিস ইবনে হাবিব বলেন, মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের পাশে একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে এবং এটিকে বড় মাদ্রাসায় রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দারোগা মসজিদ এলাকার গর্বের নিদর্শন এবং এটি সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী দারোগা মসজিদ: কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে একটি স্থাপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মার্চ ২০২৫, ১২:৪২

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার মধ্য রূপকানিয়া গ্রামে অবস্থিত হেদায়েত আলী চৌধুরী মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘দারোগা মসজিদ’ নামে পরিচিত, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ১১৫ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন।

মসজিদটি ১৯১০ সালে সাতকানিয়ার ইছামতিরকুল এলাকার উজির আলী চৌধুরী বাড়ির সন্তান হেদায়েত আলী চৌধুরী নির্মাণ করেন। তিনি ব্রিটিশ আমলে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় দারোগা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি সাড়ে ছয় কানি জমি দান করে মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মসজিদটি ১৪টি ছোট-বড় মিনার এবং তিনটি গম্বুজ বিশিষ্ট। এর প্রবেশপথে রয়েছে কারুকার্য খচিত চারটি মিনার এবং একটি ফিরোজা রঙের গম্বুজ সহ একটি বিশাল ফটক। মসজিদের চারপাশে রয়েছে কারুকাজ করা সীমানা দেয়াল। মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটি মাদ্রাসা এবং মধ্য রূপকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। উত্তর পাশে রয়েছে স্থানীয় কবরস্থান। ২০০৬ সালে মসজিদের সামনের খালি জায়গা সংস্কার করে নামাজের স্থান হিসেবে মূল মসজিদের সাথে যুক্ত করা হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন জানান, হেদায়েত আলী চৌধুরীর উদ্যোগে নির্মিত এই মসজিদটি এলাকার মানুষের কাছে গর্বের বিষয়। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু তৈয়ব (৬৪) বলেন, মসজিদের উঁচু গম্বুজগুলোর কারণে ভেতর প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা থাকে। অনেক পথচারী ও দর্শনার্থী মসজিদে বিশ্রাম নেন এবং এর নির্মাণশৈলী দেখতে আসেন।

দর্শনার্থী আবদুল জব্বার বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই মসজিদের কথা শুনে আসছেন এবং এটি প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, মসজিদটি নির্মাণে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা থেকে ইট, পাথর, সুরকি আনা হয়েছিল এবং কারিগরদেরও সেখান থেকে আনা হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর লেগেছিল।

হেদায়েত আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী রহিমুন্নেসা এবং একমাত্র মেয়ে মোছাম্মৎ ফাতেমা মসজিদের দেখাশোনা করতেন। বর্তমানে মসজিদটি একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরি আনিস ইবনে হাবিব বলেন, মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের পাশে একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে এবং এটিকে বড় মাদ্রাসায় রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দারোগা মসজিদ এলাকার গর্বের নিদর্শন এবং এটি সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা উচিত।