সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ঋতুপর্ণা চাকমার বসতঘর নির্মাণে বাধা: প্রশাসনের আশ্বাস, তদন্তের উদ্যোগ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

টানা দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কৃতী খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে বসতঘর নির্মাণে বাধার অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সাফ জয়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ঋতুপর্ণা চাকমা এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে কারা বাধা দিচ্ছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ঋতুপর্ণা চাকমা জানান, প্রথমবার সাফ জয়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি ও যাতায়াতের রাস্তা করে দেওয়াসহ নানা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মকর্তাদের বদলির কারণে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি পুনরায় সাফ জয়ের পর রাঙামাটিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এরপর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে ঘর ও রাস্তা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, গত পরশু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাকে ঘাগড়া বাজারে জায়গা দেখিয়ে মাপজোক করান। কিন্তু পরদিনই তাকে জানানো হয়, জায়গাটি নাকি ৭০ জনের একটি কমিটির দখলে। জায়গাটি নিতে হলে তাকে বিতর্কিত হতে হবে বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলার ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তিনি ঋতুপর্ণার সাথে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি জানতে পারেন, কেউ একজন ঋতুপর্ণাকে ফোন করে জায়গাটির জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেছে এবং ঘর নির্মাণ করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইউএনও আরও বলেন, খাস জায়গা দখলের সুযোগ নেই। আপত্তি থাকলে প্রশাসনের কাছে আসতে হবে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, ঋতুপর্ণার ফেসবুক পোস্টটি তাদের নজরে এসেছে। সরকারি জায়গায় সরকারি টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানেই ঘর তুলে দেওয়া হবে। কারা বাধা দিচ্ছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম মগাছড়ি গ্রামে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য ঘাগড়া বাজারের পাশে তাকে সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

ঋতুপর্ণা চাকমার বসতঘর নির্মাণে বাধা: প্রশাসনের আশ্বাস, তদন্তের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০২৫, ১৭:৩১

টানা দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কৃতী খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে বসতঘর নির্মাণে বাধার অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সাফ জয়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ঋতুপর্ণা চাকমা এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে কারা বাধা দিচ্ছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ঋতুপর্ণা চাকমা জানান, প্রথমবার সাফ জয়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি ও যাতায়াতের রাস্তা করে দেওয়াসহ নানা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মকর্তাদের বদলির কারণে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি পুনরায় সাফ জয়ের পর রাঙামাটিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এরপর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে ঘর ও রাস্তা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, গত পরশু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাকে ঘাগড়া বাজারে জায়গা দেখিয়ে মাপজোক করান। কিন্তু পরদিনই তাকে জানানো হয়, জায়গাটি নাকি ৭০ জনের একটি কমিটির দখলে। জায়গাটি নিতে হলে তাকে বিতর্কিত হতে হবে বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলার ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তিনি ঋতুপর্ণার সাথে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি জানতে পারেন, কেউ একজন ঋতুপর্ণাকে ফোন করে জায়গাটির জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেছে এবং ঘর নির্মাণ করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইউএনও আরও বলেন, খাস জায়গা দখলের সুযোগ নেই। আপত্তি থাকলে প্রশাসনের কাছে আসতে হবে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, ঋতুপর্ণার ফেসবুক পোস্টটি তাদের নজরে এসেছে। সরকারি জায়গায় সরকারি টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানেই ঘর তুলে দেওয়া হবে। কারা বাধা দিচ্ছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম মগাছড়ি গ্রামে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য ঘাগড়া বাজারের পাশে তাকে সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।