সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ঝরনায় একের পর এক মৃত্যু, তবুও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না; গত দুই বছরে এখানে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। সর্বশেষ শনি ও রোববার পরপর দুই দিনে দুই পর্যটকের মৃত্যুর পর স্পটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

শনিবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা-২ ঝরনার হ্রদে ডুবে এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহসিন আনোয়ারের (১৭) মৃত্যু হয়। এর পরদিন রোববার দুপুরে পার্শ্ববর্তী মিরসরাইয়ের রূপসী ঝরনার কূপে ডুবে মারা যান কলেজছাত্র মো. আসিফ উদ্দিন (২৪)।

ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, স্পটে নিরাপত্তার অভাব, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং অসতর্কতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

গত বছর সহস্রধারা-২ ঝরনায় আরেক পর্যটকের মৃত্যুর পর দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল— বিপজ্জনক স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, সাঁতার না জানা পর্যটকদের পানিতে নামতে না দেওয়া এবং ইজারাদারের লোকবল বাড়ানো।

কিন্তু এসব পরামর্শের অনেকই বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন। রোববার সকালে সহস্রধারা-২ ঝরনায় গিয়ে সাঁতার কাটার নিষেধাজ্ঞার ফেস্টুন দেখা গেলেও, হ্রদের গভীরতা বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার কোনো নির্দেশনা চোখে পড়েনি।

বন বিভাগের বারইয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “পর্যটকেরা ঝরনায় গিয়ে অনেক সময় কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করেন। ফলে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। রূপসী ঝরনার সামনের ছোট্ট কুয়াটি অনেক গভীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আজ দুপুরেও একজন ঝুঁকি নিয়ে ওপর থেকে লাফ দিয়ে মারা যান।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ইজারাদাররা এ বছর লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া ও গাইডের ব্যবস্থা করেছেন, যা গত বছর ছিল না।

তবে সহস্রধারা ঝরনার ইজারাদার ওহিদুল ইসলাম শরীফ বলেন, “আমরা পর্যটকদের সাঁতার কাটতে নিরুৎসাহিত করি, কিন্তু তারা শুনতে চান না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে যায়।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সহস্রধারা-২ ঝরনায় ডুবে যাওয়ার সময় তাহসিন সাহায্য চেয়ে চিৎকার করলেও তার বন্ধুরা প্রথমে বিষয়টিকে ‘দুষ্টুমি’ ভেবেছিল, যা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে দেরি করিয়ে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

ঝরনায় একের পর এক মৃত্যু, তবুও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জুন ২০২৫, ২১:৫০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না; গত দুই বছরে এখানে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। সর্বশেষ শনি ও রোববার পরপর দুই দিনে দুই পর্যটকের মৃত্যুর পর স্পটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

শনিবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা-২ ঝরনার হ্রদে ডুবে এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহসিন আনোয়ারের (১৭) মৃত্যু হয়। এর পরদিন রোববার দুপুরে পার্শ্ববর্তী মিরসরাইয়ের রূপসী ঝরনার কূপে ডুবে মারা যান কলেজছাত্র মো. আসিফ উদ্দিন (২৪)।

ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, স্পটে নিরাপত্তার অভাব, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং অসতর্কতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

গত বছর সহস্রধারা-২ ঝরনায় আরেক পর্যটকের মৃত্যুর পর দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল— বিপজ্জনক স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, সাঁতার না জানা পর্যটকদের পানিতে নামতে না দেওয়া এবং ইজারাদারের লোকবল বাড়ানো।

কিন্তু এসব পরামর্শের অনেকই বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন। রোববার সকালে সহস্রধারা-২ ঝরনায় গিয়ে সাঁতার কাটার নিষেধাজ্ঞার ফেস্টুন দেখা গেলেও, হ্রদের গভীরতা বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার কোনো নির্দেশনা চোখে পড়েনি।

বন বিভাগের বারইয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “পর্যটকেরা ঝরনায় গিয়ে অনেক সময় কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করেন। ফলে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। রূপসী ঝরনার সামনের ছোট্ট কুয়াটি অনেক গভীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আজ দুপুরেও একজন ঝুঁকি নিয়ে ওপর থেকে লাফ দিয়ে মারা যান।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ইজারাদাররা এ বছর লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া ও গাইডের ব্যবস্থা করেছেন, যা গত বছর ছিল না।

তবে সহস্রধারা ঝরনার ইজারাদার ওহিদুল ইসলাম শরীফ বলেন, “আমরা পর্যটকদের সাঁতার কাটতে নিরুৎসাহিত করি, কিন্তু তারা শুনতে চান না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে যায়।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সহস্রধারা-২ ঝরনায় ডুবে যাওয়ার সময় তাহসিন সাহায্য চেয়ে চিৎকার করলেও তার বন্ধুরা প্রথমে বিষয়টিকে ‘দুষ্টুমি’ ভেবেছিল, যা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে দেরি করিয়ে দেয়।