সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন তো দূরের কথা, উল্টো বাড়ছে অনুপ্রবেশ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব না হলেও, উল্টো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এই নতুন সংকটকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা এবং এটি ঠেকাতেই এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত এক বছরে (গত মে পর্যন্ত) মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। গড়ে প্রতিদিন ২০-৩০ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করা সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো— সহসাই প্রত্যাবাসন না ঘটলেও অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. শহীদুজ্জামান মনে করেন, “কূটনৈতিক উপায়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন হবে না। প্রত্যাবাসনও হবে না, অনুপ্রবেশও বন্ধ হবে না, যতদিন পর্যন্ত সামরিক শক্তি দেখানো না হবে।”

এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ বিষয়ক একটি রেজল্যুশন গৃহীত হয়েছে।

অধিবেশনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ সবপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত একটি অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

তিনি পরিষদকে অবহিত করেন, রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং ‘আরাকান আর্মি’র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে শুধু গত বছরের নভেম্বর থেকেই প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা বিষয়ে আয়োজিতব্য উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ এই সংকটের একটি বাস্তবমুখী এবং সময়াবদ্ধ সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন তো দূরের কথা, উল্টো বাড়ছে অনুপ্রবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই ২০২৫, ১৪:২৭

কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব না হলেও, উল্টো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এই নতুন সংকটকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা এবং এটি ঠেকাতেই এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত এক বছরে (গত মে পর্যন্ত) মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। গড়ে প্রতিদিন ২০-৩০ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করা সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো— সহসাই প্রত্যাবাসন না ঘটলেও অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. শহীদুজ্জামান মনে করেন, “কূটনৈতিক উপায়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন হবে না। প্রত্যাবাসনও হবে না, অনুপ্রবেশও বন্ধ হবে না, যতদিন পর্যন্ত সামরিক শক্তি দেখানো না হবে।”

এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ বিষয়ক একটি রেজল্যুশন গৃহীত হয়েছে।

অধিবেশনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ সবপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত একটি অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

তিনি পরিষদকে অবহিত করেন, রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং ‘আরাকান আর্মি’র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে শুধু গত বছরের নভেম্বর থেকেই প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা বিষয়ে আয়োজিতব্য উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ এই সংকটের একটি বাস্তবমুখী এবং সময়াবদ্ধ সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করবে।