সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

বিশ্বে ২৫% হার্ট অ্যাটাকের কারণ বায়ুদূষণ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, বাতাসে ভেসে থাকা অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বিশ্বে যত হার্ট অ্যাটাক হয়, তার ২৫ শতাংশের জন্যই বায়ুদূষণ দায়ী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপসের জরিপ বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার বায়ুর মান ছিল গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ীও, ঢাকার বাতাসে পিএম ২.৫ এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩৫ গুণ বেশি এবং প্রায়ই বায়ুর মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “বায়ুদূষণে থাকা পিএম ২.৫ কণা ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে ধমনির গায়ে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে ধমনি সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়।”

তিনি জানান, শীতকালে বায়ুদূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকের রোগী ও মৃত্যুহার—দুটিই বেড়ে যায়, যা খুবই উদ্বেগজনক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “একজন মানুষের শরীরে যত ধরনের রোগ হয়, তার সবকিছুর সঙ্গেই বায়ুদূষণের যোগ রয়েছে। দূষণটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সেটি না করে বায়ুদূষণের হাত থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া একেবারেই অসম্ভব।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

বিশ্বে ২৫% হার্ট অ্যাটাকের কারণ বায়ুদূষণ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৫, ২১:১৭

রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, বাতাসে ভেসে থাকা অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বিশ্বে যত হার্ট অ্যাটাক হয়, তার ২৫ শতাংশের জন্যই বায়ুদূষণ দায়ী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপসের জরিপ বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার বায়ুর মান ছিল গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ীও, ঢাকার বাতাসে পিএম ২.৫ এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩৫ গুণ বেশি এবং প্রায়ই বায়ুর মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “বায়ুদূষণে থাকা পিএম ২.৫ কণা ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে ধমনির গায়ে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে ধমনি সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়।”

তিনি জানান, শীতকালে বায়ুদূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকের রোগী ও মৃত্যুহার—দুটিই বেড়ে যায়, যা খুবই উদ্বেগজনক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “একজন মানুষের শরীরে যত ধরনের রোগ হয়, তার সবকিছুর সঙ্গেই বায়ুদূষণের যোগ রয়েছে। দূষণটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সেটি না করে বায়ুদূষণের হাত থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া একেবারেই অসম্ভব।”