সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: আবাসনসংকট ৭০% শিক্ষার্থীর, নেপথ্যে ‘নিয়োগের রাজনীতি’

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই যুগে নতুন ২৪টি বিভাগ খোলা হলেও সেই অনুপাতে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা বাড়েনি। ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীরই হলে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই, যা সম্প্রতি স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সংঘর্ষের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০০০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ১৪ হাজার, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫১৫ জনে। এই সময়ে পাঁচটি নতুন হল নির্মিত হলেও আসন বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৩২টি। বর্তমানে ১৪টি হলে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পেলেও বাকি ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হয় ২২ কিলোমিটার দূরের শহর অথবা ক্যাম্পাসের আশপাশের অনিরাপদ ও ব্যয়বহুল মেস ও কটেজে।

গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট ক্যাম্পাস-সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর আবাসন সংকট সমাধানের দাবি জোরালো হয়। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে ১০টি নতুন হল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে শিক্ষকরা বলছেন, নিয়োগ বাণিজ্য ও শিক্ষক রাজনীতিতে নিজেদের দল ভারী করার উদ্দেশ্যেই মূলত আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে একের পর এক বিভাগ খোলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “মূলত ভোটার বাড়াতে বা দল ভারী করতে একের পর এক বিভাগ খুলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি মেধা তালিকায় পিছিয়ে থাকা দলীয় প্রার্থীকেও নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।”

২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আটটি এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০১৮) আরও ১৬টি নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট খোলা হয়। এই সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৫০০ শিক্ষকের অনেকের বিরুদ্ধেই অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে।

এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আবাসন সুবিধা দিতে না পারার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “আবাসনসংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। আমার হাতে ১০টা আলাদিনের চেরাগ এনে দিলেও এ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান আমি করতে পারব না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান বলেন, “সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে বিভাগ খোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে বিপদে ফেলার মতো অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর নতুন বিভাগ খোলা শেষ পর্যন্ত নিয়োগ-বাণিজ্যে রূপ নেয়, যা দুর্ভাগ্যজনক।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: আবাসনসংকট ৭০% শিক্ষার্থীর, নেপথ্যে ‘নিয়োগের রাজনীতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৮

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই যুগে নতুন ২৪টি বিভাগ খোলা হলেও সেই অনুপাতে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা বাড়েনি। ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীরই হলে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই, যা সম্প্রতি স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সংঘর্ষের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০০০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ১৪ হাজার, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫১৫ জনে। এই সময়ে পাঁচটি নতুন হল নির্মিত হলেও আসন বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৩২টি। বর্তমানে ১৪টি হলে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পেলেও বাকি ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হয় ২২ কিলোমিটার দূরের শহর অথবা ক্যাম্পাসের আশপাশের অনিরাপদ ও ব্যয়বহুল মেস ও কটেজে।

গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট ক্যাম্পাস-সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর আবাসন সংকট সমাধানের দাবি জোরালো হয়। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে ১০টি নতুন হল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে শিক্ষকরা বলছেন, নিয়োগ বাণিজ্য ও শিক্ষক রাজনীতিতে নিজেদের দল ভারী করার উদ্দেশ্যেই মূলত আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে একের পর এক বিভাগ খোলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “মূলত ভোটার বাড়াতে বা দল ভারী করতে একের পর এক বিভাগ খুলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি মেধা তালিকায় পিছিয়ে থাকা দলীয় প্রার্থীকেও নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।”

২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আটটি এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০১৮) আরও ১৬টি নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট খোলা হয়। এই সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৫০০ শিক্ষকের অনেকের বিরুদ্ধেই অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে।

এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আবাসন সুবিধা দিতে না পারার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “আবাসনসংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। আমার হাতে ১০টা আলাদিনের চেরাগ এনে দিলেও এ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান আমি করতে পারব না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান বলেন, “সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে বিভাগ খোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে বিপদে ফেলার মতো অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর নতুন বিভাগ খোলা শেষ পর্যন্ত নিয়োগ-বাণিজ্যে রূপ নেয়, যা দুর্ভাগ্যজনক।”