সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

উৎপাদন বেড়ে বাজারে সয়লাব দেশি মাল্টা, স্বস্তি ক্রেতাদের

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

দেশে সবুজ মাল্টার উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তুলনামূলক কম দামে এই ফল পাচ্ছেন ক্রেতারা, যা আমদানিনির্ভর বিদেশি মাল্টার ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ছয় বছরে দেশে মাল্টার উৎপাদন প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে ৮৪ হাজার টন ছাড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন ফলের আমদানি ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসছে এই পুষ্টিকর ফল।

বহদ্দারহাট বাজারে ফল কিনতে আসা গৃহিণী ফাতেমা বেগম জানান, বিদেশি মাল্টার কেজি যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে তিনি দেশি মাল্টা কিনেছেন ৮০ টাকা কেজিতে। জেসমিন আক্তার বলেন, “বিদেশি মাল্টার অনেক দাম। দেশি মাল্টা দামে সস্তা হওয়ায় এখন এটাই কিনছি।”

ফল বিক্রেতা মো. ইব্রাহিম জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে বাজারে আসা দেশি মাল্টার সরবরাহ এখন বেশ ভালো, তাই দামও কম এবং চাহিদাও বেশি।

উৎপাদনে সাফল্য

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য বলছে, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে দেশে মাল্টার উৎপাদন ছিল ১৭ হাজার টন, যা গত (২০২৪–২৫) অর্থবছরে বেড়ে ৮৪ হাজার টন ছাড়িয়েছে। এ সময়ে চাষের আওতায় থাকা জমির পরিমাণও ২,৪৩৩ হেক্টর থেকে বেড়ে প্রায় আট হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

ফল বিশেষজ্ঞ ও ডিএই’র সাবেক পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ জানান, নব্বইয়ের দশকে ভারত থেকে আসা সবুজ মাল্টা নিয়ে গবেষণা করে ‘বারি মাল্টা-১’ জাতটি অবমুক্ত করা হয়। এটি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাওয়ানোয় এখন এর চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

ডিএই’র উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. ময়নুল হক জানান, পার্বত্য জেলাগুলোতে মাল্টা বেশি চাষ হয়। উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে বান্দরবান, এরপর খাগড়াছড়ি ও রাজশাহী। বান্দরবানের চাষী প্রেন্তে ম্রো জানান, ভালো ফলন হওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে মাল্টার বাগান বাড়িয়েছেন।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা শাখার পরিচালক মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, “দেশি মাল্টার স্বাদ, রস ও মিষ্টতা বিদেশি মাল্টার প্রায় কাছাকাছি। খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় চাষিরা এতে লাভবান হচ্ছেন।”

আমদানি ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দেশীয় উৎপাদন বাড়ায় এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুষ্টিবিদ খালেদা খাতুন বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া দরকার। সাশ্রয়ী মূল্যে দেশি ফলের জোগান বাড়লে তা সাধারণ মানুষের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

উৎপাদন বেড়ে বাজারে সয়লাব দেশি মাল্টা, স্বস্তি ক্রেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২২:০৩

দেশে সবুজ মাল্টার উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তুলনামূলক কম দামে এই ফল পাচ্ছেন ক্রেতারা, যা আমদানিনির্ভর বিদেশি মাল্টার ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ছয় বছরে দেশে মাল্টার উৎপাদন প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে ৮৪ হাজার টন ছাড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন ফলের আমদানি ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসছে এই পুষ্টিকর ফল।

বহদ্দারহাট বাজারে ফল কিনতে আসা গৃহিণী ফাতেমা বেগম জানান, বিদেশি মাল্টার কেজি যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে তিনি দেশি মাল্টা কিনেছেন ৮০ টাকা কেজিতে। জেসমিন আক্তার বলেন, “বিদেশি মাল্টার অনেক দাম। দেশি মাল্টা দামে সস্তা হওয়ায় এখন এটাই কিনছি।”

ফল বিক্রেতা মো. ইব্রাহিম জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে বাজারে আসা দেশি মাল্টার সরবরাহ এখন বেশ ভালো, তাই দামও কম এবং চাহিদাও বেশি।

উৎপাদনে সাফল্য

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য বলছে, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে দেশে মাল্টার উৎপাদন ছিল ১৭ হাজার টন, যা গত (২০২৪–২৫) অর্থবছরে বেড়ে ৮৪ হাজার টন ছাড়িয়েছে। এ সময়ে চাষের আওতায় থাকা জমির পরিমাণও ২,৪৩৩ হেক্টর থেকে বেড়ে প্রায় আট হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

ফল বিশেষজ্ঞ ও ডিএই’র সাবেক পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ জানান, নব্বইয়ের দশকে ভারত থেকে আসা সবুজ মাল্টা নিয়ে গবেষণা করে ‘বারি মাল্টা-১’ জাতটি অবমুক্ত করা হয়। এটি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাওয়ানোয় এখন এর চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

ডিএই’র উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. ময়নুল হক জানান, পার্বত্য জেলাগুলোতে মাল্টা বেশি চাষ হয়। উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে বান্দরবান, এরপর খাগড়াছড়ি ও রাজশাহী। বান্দরবানের চাষী প্রেন্তে ম্রো জানান, ভালো ফলন হওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে মাল্টার বাগান বাড়িয়েছেন।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা শাখার পরিচালক মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, “দেশি মাল্টার স্বাদ, রস ও মিষ্টতা বিদেশি মাল্টার প্রায় কাছাকাছি। খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় চাষিরা এতে লাভবান হচ্ছেন।”

আমদানি ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দেশীয় উৎপাদন বাড়ায় এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুষ্টিবিদ খালেদা খাতুন বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া দরকার। সাশ্রয়ী মূল্যে দেশি ফলের জোগান বাড়লে তা সাধারণ মানুষের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।”